হেফাজতে মৃত্যু মামলায় ৯ পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, মাদ্রাজ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

হেফাজতে মৃত্যু মামলায় ৯ পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, মাদ্রাজ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলায় চাঞ্চল্যকর সাথানকুলাম হেফাজতে মৃত্যু মামলায় ৯ জন পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। ২০২০ সালে লকডাউন চলাকালীন বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর দোষী সাব্যস্ত পুলিশ আধিকারিকদের এই কঠোর সাজা শুনিয়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করলে কোনোভাবেই রেহাই মিলবে না।

ঘটনার সূত্রপাত হয় থুথুকুডি জেলার সাথানকুলাম এলাকায়, যেখানে পি. জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে. বেনিক্স একটি মোবাইল ফোনের দোকান চালাতেন। অভিযোগ ছিল, লকডাউনের নিয়ম লঙ্ঘন করে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় দোকান খোলা রেখেছিলেন। এই সামান্য অজুহাতে পুলিশ তাঁদের আটক করে হেফাজতে নেয়। কিন্তু থানায় নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন বাবা ও ছেলে উভয়েরই শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁদের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ২০ জুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২২ জুন বেনিক্স এবং ২৩ জুন জয়রাজ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই জোড়া মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে তামিলনাড়ু ছাড়িয়ে গোটা দেশে, যা পুলিশি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্তে উঠে আসে যে, আটকের সময় কোনো আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়নি এবং হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের ওপর চরম নিষ্ঠুরতা ও অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল।

আদালত মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে জানায় যে, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো একটি জঘন্য অপরাধ। এই ঘটনাকে বিরল থেকে বিরলতম হিসেবে গণ্য করে আদালত অভিযুক্ত ৯ পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এই রায়কে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায় ভবিষ্যতে কাস্টোডিয়াল ভায়োলেন্স বা হেফাজতে হিংসা রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *