হেলিকপ্টারে হামলা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ মমতার বিস্ফোরক দাবিতে চাঞ্চল্য

হেলিকপ্টারে হামলা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ মমতার বিস্ফোরক দাবিতে চাঞ্চল্য

কালনা মহকুমার সমুদ্রগড়ে এক নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, মালদহ থেকে সভা সেরে ফেরার পথে আকাশপথে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর আকাশপথে সফরের সময় হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মালদহ থেকে ফেরার সময় আচমকা ড্রোনটি হেলিকপ্টারের একেবারে সামনে চলে আসে। ড্রোনের সাথে হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত এবং কপ্টারটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এই ড্রোনকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিহারের তিন যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের টার্গেট কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাঁর জীবন কেড়ে নেওয়া।

চক্রান্তকারীদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, জীবন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলেও তিনি সাধারণ মানুষের লড়াই থেকে পিছু হটবেন না। যতক্ষণ তিনি জীবিত আছেন, ততক্ষণ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে এবং মানুষের স্বার্থে তাঁর কণ্ঠ সোচ্চার থাকবে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ড্রোনটি কোথা থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল এবং ধৃতদের সাথে কোনো বড় চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার এই ত্রুটি এবং ড্রোনের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন শাসকদলের নেতারা। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। সমুদ্রগড়ের এই সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *