হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে আসছে মারাত্মক কড়া নিয়ম, ১ মার্চ থেকে সিম বাইন্ডিং না করলে বন্ধ হতে পারে অ্যাকাউন্ট

অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং সাইবার জালিয়াতি রুখতে ভারত সরকার এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপের জন্য জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকা। ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই ‘সিম-বাইন্ডিং’ (SIM-Binding) নিয়মটি প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা ২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি, তাদের জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা আরও কঠোর হতে চলেছে।
কী এই সিম বাইন্ডিং এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় শুধুমাত্র একবার ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। এরপর সিম কার্ড ফোন থেকে বের করে নিলেও ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা অন্য ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ দিব্যি চালানো যায়। কিন্তু নতুন নিয়মে এই সুযোগ আর থাকছে না। এখন থেকে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি যে নম্বরে রেজিস্টার্ড, সেই ফিজিক্যাল সিম কার্ডটি অবশ্যই আপনার প্রাথমিক স্মার্টফোনে থাকতে হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এখন থেকে প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করে দেখবে যে, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডটি ওই ফোনে সক্রিয় আছে কি না। যদি সিম কার্ডটি ফোন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, পরিবর্তন করা হয় কিংবা ডিঅ্যাক্টিভেট হয়ে যায়, তবে ব্যবহারকারীকে পুনরায় ভেরিফিকেশন না করা পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
সাইবার অপরাধ রুখতে সরকারের কঠোর অবস্থান
ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো ক্রমবর্ধমান সাইবার জালিয়াতি। স্ক্যামাররা সাধারণত একটি নম্বর দিয়ে একবার হোয়াটসঅ্যাপ রেজিস্টার করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। সিম কার্ড ছাড়াই অ্যাকাউন্ট সচল থাকায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার জালিয়াতির কারণে প্রায় ২২,৮০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিটি অ্যাকাউন্টকে কেওয়াইসি (KYC) ভেরিফাইড সিমের সাথে যুক্ত রাখার ফলে অপরাধীদের ট্র্যাক করা অনেক সহজ হবে। সরকার মনে করছে, এই সিম-বাইন্ডিং প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করবে।
ব্যবহারকারীদের জীবনে যে পরিবর্তনগুলো আসবে
১. নিয়মিত চেক-ইন: হোয়াটসঅ্যাপ প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর আপনার ফোনে সিমের উপস্থিতি যাচাই করবে।
২. হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ও ডেস্কটপ: যারা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর লগ-আউট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে পুনরায় অথেন্টিকেশন করতে হবে।
৩. সেকেন্ডারি ডিভাইস: সিম কার্ড নেই এমন ট্যাবলেট বা অন্য ডিভাইসে যারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের বারবার লগ-ইন করার ঝক্কি পোহাতে হতে পারে।
৪. সিম ও মালিকানা: আপনার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি অবশ্যই আপনার নিজের নামে রেজিস্ট্রিকৃত সিম কার্ডের সাথে যুক্ত হতে হবে।
গ্রাহকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
এই নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে ব্যবহারকারীদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট করে নিন। আপনার প্রাথমিক ফোনটি সবসময় হাতের কাছে রাখুন, বিশেষ করে যখন আপনি ডেস্কটপ ভার্সন ব্যবহার করছেন। মনে রাখবেন, এই নিয়মটি অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তার খাতিরে এতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাই ঝক্কি এড়াতে আজই আপনার সিম কার্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলিয়ে নিন।