১০০০ কেজির ৬০০ সুপার বাঙ্কার বাস্টার বোমা বানাচ্ছে ভারত, বাড়বে বায়ুসেনার শক্তি

ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে এক উচ্চাভিলাষী মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অধীনে এবার ১০০০ কিলোগ্রাম ওজনের ৬০০টি স্বদেশি এরিয়াল বোমা পেতে চলেছে বায়ুসেনা। এই লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ বা ইওআই জারি করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ইতিহাসে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার নিরিখে ভারতের এই নতুন স্বদেশি বোমা আমেরিকার বিখ্যাত ‘Mk-84’ বোমার সমতুল্য হবে। এই প্রকল্পের অন্যতম বিশেষত্ব হলো বোমার বহুমুখী উপযোগিতা। একে এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যাতে এটি রাশিয়ার তৈরি সুখোই-৩০ এমকেআই এবং ফ্রান্সের রাফাল বা মিরাজ—উভয় ধরনের যুদ্ধবিমানের সঙ্গেই অনায়াসে যুক্ত করা যায়। এর ফলে যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভারতের বিমানবাহিনীর অভিযানের গতি ও সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
গোটা প্রকল্পটি দুটি প্রধান পর্যায়ে সম্পন্ন করার রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ডিজাইন ও উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে, যেখানে ৬টি প্রোটোটাইপ তৈরি করে ভারতের নিজস্ব টেস্ট রেঞ্জে বোমার টেল ইউনিট ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের পরীক্ষা চালানো হবে। এই ট্রায়াল সফল হওয়ার পর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়। তখন আরএফপি বা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় আকারে উৎপাদন শুরু হবে এবং বায়ুসেনার জন্য মোট ৬০০টি বোমা কেনা নিশ্চিত করা হবে।
শত্রুপক্ষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে এই ‘সুপার বাঙ্কার বাস্টার’ বোমাগুলি অত্যন্ত কার্যকর। এগুলি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক শক্তি তৈরি করতে সক্ষম, যার প্রচণ্ড চাপে শত্রুশিবিরের মজবুত বাঙ্কার, এয়ারবেস, সামরিক সদর দফতর এবং কংক্রিটের শক্তিশালী কাঠামো অনায়াসে ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। ডিএপি ২০২০-এর মেক-টু ক্যাটাগরির আওতায় এই প্রকল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ দেশীয় উপকরণের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা দেশীয় এমএসএমই সেক্টরের জন্য বড় সুযোগ।
বর্তমানে ভারত এই ধরনের ভারী বোমার জন্য মূলত বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রকল্পের সফল রূপায়ন একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে, তেমনই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতকে বিদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, ডিজাইন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে ভারত বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।