১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আরবিআই বৈঠকের আগেই দুশ্চিন্তার পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তাতে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি নিয়ে আশঙ্কার মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) আসন্ন মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকের আগেই এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিদেশি ব্রোকারেজ সংস্থা এইচএসবিসি। তাদের দাবি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম যদি প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার বা তার বেশি থাকে, তবে দেশের মুদ্রাস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সহনশীলতার মাত্রা (৬ শতাংশ) ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরবিআই সুদের হার বাড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচএসবিসি-র অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম বজায় থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। এর ফলে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা গ্রোথ রেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে দ্বিমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তার আগে এইচএসবিসি-র এই পূর্বাভাস নীতিনির্ধারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে আসন্ন বৈঠকে মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করতে পারে আরবিআই।
রিপোর্টে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে রাজস্ব ও আর্থিক উভয় ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে রাজস্ব ঘাটতি সামাল দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদি জ্বালানি তেলের এই সংকট আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে চাহিদাকে কৃত্রিমভাবে চাঙ্গা না করে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।