১০০ ডলার পেরোলেই বিপদ, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির চাকায় ব্রেক কষতে পারে অপরিশোধিত তেল

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি ভারতের অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রেটিং সংস্থা কেয়ারএজ-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির গতি শ্লথ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়, তবে ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার কমে ৬.৫ শতাংশে নামতে পারে। উল্লেখ্য, তেলের দাম যখন ৬০-৭০ ডলার ছিল, তখন এই বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল ৭.২ শতাংশ।
চড়া তেলের দাম শুধুমাত্র জিডিপি নয়, সাধারণ মানুষের পকেটেও টান ফেলবে। রিপোর্ট বলছে, জ্বালানির দাম বাড়লে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার স্পর্শ করলে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে যদি তেলের দাম ১১০ বা ১২০ ডলারে পৌঁছায়, তবে মুদ্রাস্ফীতি ৬.৬ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের একাধিক শিল্পক্ষেত্রকে খাদের কিনারে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বিমান পরিষেবা, পেট্রোকেমিক্যাল, সিরামিক এবং কাচ শিল্পের ওপর এর প্রভাব হবে সবথেকে বেশি। এছাড়াও টায়ার, প্যাকেজিং এবং সার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো উৎপাদন খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে পারে। যদিও ঘরোয়া চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় অর্থনীতি এখনও স্থিতিশীল, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।
ভারতের এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তেলের আন্তর্জাতিক দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি শিল্প মহলেও বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে ঘরোয়া বাজার কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে স্থায়ী হওয়া ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।