১০৩ বছর বয়সেও তেজ অটুট, বৃদ্ধার চা বিক্রির লড়াইয়ে হার মানবে তরুণ প্রজন্মও

১০৩ বছর বয়সেও তেজ অটুট, বৃদ্ধার চা বিক্রির লড়াইয়ে হার মানবে তরুণ প্রজন্মও

বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা তা আবারও সগর্বে প্রমাণ করলেন গুজরাটের ভদোদরার এক বৃদ্ধা। ১০৩ বছর বয়সে পদার্পণ করেও বিশ্রামের পথে হাঁটেননি তিনি। বরং প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের আদা চায়ের স্টল চালিয়ে জীবনযুদ্ধে এক অনন্য নজির গড়ে চলেছেন এই পক্বকেশ বৃদ্ধা, যাঁকে স্থানীয়রা ভালোবেসে ‘কাকী’ বলে ডাকেন।

সাধারণত এই বয়সে মানুষ পরিবারের সেবা ও চিকিৎসকদের নজরদারিতে অন্তিম দিনগুলি অতিবাহিত করেন। কিন্তু এই বৃদ্ধার জীবনধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভদোদরার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গেলেই দেখা মিলবে তাঁর এই ছোট্ট চায়ের দোকানের। কারোর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আজও তিনি নিজের রোজগার নিজে করার জেদ বজায় রেখেছেন।

এই বৃদ্ধার আদা চায়ের খ্যাতি এখন সর্বত্র। আদা থেঁতো করা থেকে শুরু করে চা তৈরি—সব কাজই তিনি নিপুণ হাতে একা সম্পন্ন করেন। তাঁর হাতের সুগন্ধি আদা চায়ের টানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান দোকানের সামনে। শারীরিক সক্ষমতা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে অবাক হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরাও।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই লড়াকু বৃদ্ধার কাহিনী প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা তাঁর এই অদম্য প্রাণশক্তি ও স্বাবলম্বী হওয়ার মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। শতবর্ষ পার করেও কীভাবে একজন মানুষ এতটা কর্মঠ থাকতে পারেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত কঠোর পরিশ্রমই যে তাঁকে এই বয়সেও সুস্থ ও কর্মক্ষম রেখেছে, তা তিনি প্রতিদিন কাজে নামার মাধ্যমেই প্রমাণ করছেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার এবং কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার এক জীবন্ত আদর্শ হয়ে উঠেছেন ভদোদরার এই ‘চাওয়ালি কাকী’। তাঁর এই জীবনগাথা সামাজিক মাধ্যমে এক পজিটিভ বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *