১০ বছরে এমবিবিএস, বাড়বে ‘সাপ্লি’র সুযোগও! ডাক্তারি পড়ুয়াদের জন্য বড় সুপারিশ স্থায়ী কমিটির

চিকিৎসা শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল আনতে চলেছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশে এমবিবিএস উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা এবং পরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ডাক্তারি পড়ুয়াদের ওপর মানসিক চাপ যেমন কমবে, তেমনই এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে চিকিৎসক মহলের একাংশের মধ্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
সুপারিশের প্রধান দিকগুলো
বর্তমানে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বা এনএমসি-র নিয়ম অনুযায়ী, এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য একজন পড়ুয়া সর্বোচ্চ চারবার সুযোগ পান। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নতুন রিপোর্টে এই সুযোগ বাড়িয়ে ছয়বার করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম বর্ষের কঠিন বিষয়গুলোতে খাপ খাইয়ে নিতে পড়ুয়ারা এখন থেকে মোট পাঁচটি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
এর পাশাপাশি, পুরো এমবিবিএস কোর্সটি শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানের ৯ বছরের বদলে ১০ বছরের মধ্যে কোর্স সম্পূর্ণ করার বাধ্যবাধকতা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তনের ভাবনা
কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, অ্যানাটমি, ফিজিয়োলজি এবং বায়োকেমিস্ট্রির মতো বুনিয়াদি বিষয়গুলো অনেক পড়ুয়ার কাছেই বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গ্রামীণ বা পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকে আসা পড়ুয়ারা শুরুতে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খান। মাত্র চারবার সুযোগ দেওয়ার নিয়মটি অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর হয়ে যায়, যার ফলে অকালেই অনেক মেধাবী পড়ুয়া ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন বিসর্জন দেন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতেই এই মানবিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়েছে।
মান বনাম নমনীয়তা: চিকিৎসক মহলে বিতর্ক
এই প্রস্তাব সামনে আসার পরেই দ্বিমত তৈরি হয়েছে শিক্ষা মহলে। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সুযোগ বৃদ্ধি করার মানে এই নয় যে পড়াশোনার মান কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বরং এটি পড়ুয়াদের জন্য এক ধরণের নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করবে। তবে অন্য পক্ষ দাবি করছে, বারবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিলে নমনীয়তা বাড়বে ঠিকই, কিন্তু তাতে চিকিৎসকদের ন্যূনতম দক্ষতার মানদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এই নিয়ম চূড়ান্তভাবে চিকিৎসা পরিষেবার গুণমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী দিনের পথ
এর আগে কোভিডের সময় সাময়িকভাবে কিছু ব্যাচকে অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের সুপারিশটি স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংসদীয় কমিটির এই প্রস্তাব এখন কেন্দ্রীয় সরকার এবং এনএমসি-র বিবেচনার অপেক্ষায়। সরকার যদি এই প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হতে চলেছে।
একঝলকে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো:
- প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় সুযোগ: ৪ বার থেকে বাড়িয়ে ৬ বার করার প্রস্তাব।
- কোর্স শেষের সময়সীমা: ৯ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর করার সুপারিশ।
- লক্ষ্য: পড়ুয়াদের ঝরে পড়া রোধ এবং মানসিক চাপ কমানো।
- বিতর্ক: শিক্ষার গুণগত মান এবং চিকিৎসা পরিষেবার দক্ষতা নিয়ে দ্বিমত।