১০ বছর কেটে গেলেও আসাম্পূর্ণ সিপিইসি প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি দিল চীন

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি-র অধীনে অমীমাংসিত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে এবং গোয়াদার বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ইসলামাবাদের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে বেইজিং। সম্প্রতি পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকে বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তারা ধৈর্য ধরেছে, কিন্তু প্রকল্পের এই মন্থর গতি আর বরদাস্ত করা হবে না। ২০২৬ সালের শুরু থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থমকে থাকায় এই হুঁশিয়ারি এল।
চীনা কর্মকর্তাদের মূল উদ্বেগের কারণ হলো পাকিস্তানে কর্মরত তাদের কর্মী ও সম্পদের নিরাপত্তা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনা ও বেলুচিস্তানে চীনা বিনিয়োগের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি গোয়াদর বন্দরের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সিপিইসি প্রকল্পের প্রথম পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হলে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল ‘সিপিইসি ২.০’-তে পরবর্তী বিনিয়োগ করা হবে।
একইসঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত মিটিয়ে বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত করতে পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গোয়াদরকে প্রতিষ্ঠা করা এবং আফগানিস্তানকে এই বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করা। ভারতের প্রতিবেশী এই দেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক নীতিনির্ধারণে তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।