১২ বছরে সর্বোচ্চ উত্থান রুপির দাপটে ধরাশায়ী ডলার

দীর্ঘ ১২ বছরের রেকর্ড ভেঙে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বড় জয় পেল ভারতীয় রুপি। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ডলারের তুলনায় রুপির মান ১৫৬ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের শেষে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩.১৪ টাকা (অস্থায়ী)। মূলত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) কঠোর হস্তক্ষেপ এবং নতুন কিছু নীতিগত পরিবর্তনের ফলেই মুদ্রাবাজারে এই নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় রুপির মান তলানিতে ঠেকেছিল। গত সোমবার এক ডলারের দাম ৯৫ টাকা ছাড়িয়ে যায় এবং শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় তা ৯৪.৮৪ টাকার ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছিল। তবে পতন রুখতে আরবিআই গত ২৭ মার্চ একটি সার্কুলার জারি করে। যেখানে ব্যাঙ্কগুলোর জন্য রুপিতে নেট ওপেন পজিশনের সীমা ১০ কোটি ডলার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যাঙ্কগুলো বড় আকারে ডলার বিক্রি শুরু করেছে।
বাজারের জল্পনা ও ফাটকা কারবার বন্ধ করতে আরবিআই আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক অনশোর ফরোয়ার্ড মার্কেটে নন-ডেলিভারেবল ডেরিভেটিভ চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে একবার বাতিল করা ফরেন এক্সচেঞ্জ ডেরিভেটিভ চুক্তি পুনরায় বুক করার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাঙ্কগুলো তাদের ওপেন পজিশন কমাতে ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে, যা রুপির শক্তি বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ডলার সূচক ০.৬০ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ১০০.০৫-এ অবস্থান করছে। অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬.৮৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রুপির মান ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছিল। এমনকি সম্পূর্ণ অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এ ভারতীয় মুদ্রা প্রায় ১০ শতাংশ দুর্বল হয়েছে।
মুদ্রাবাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারতের শেয়ার বাজার ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সেনসেক্স ১৮৫.২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭৩,৩১৯.৫৫ এবং নিফটি ৩৩.৭০ পয়েন্ট বেড়ে ২২,৭১৩.১০ অঙ্কে থিতু হয়েছে। যদিও বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (এফআইআই) এদিন ৮,৩৩১.১৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। তবে আরবিআই-এর সময়োচিত পদক্ষেপে রুপির এই প্রত্যাবর্তন আমদানিকারকদের স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।