১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে দেশে প্রথমবার মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর ঐতিহাসিক অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট

১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে দেশে প্রথমবার মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর ঐতিহাসিক অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রায়ের সাক্ষী থাকল দেশ। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী গাজিয়াবাদের যুবক হরিশ রানাকে অবশেষে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা সসম্মানে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক নির্দেশিকার পর এই প্রথম দেশের কোনও নির্দিষ্ট মামলায় আদালত এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

৩১ বছর বয়সি হরিশ রানা ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি পেয়িং গেস্ট আবাসের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই থেকে গত ১৩ বছর ধরে তিনি ‘পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। কৃত্রিম নলের সাহায্যে তাঁর শরীরে খাবার ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর সেরে ওঠার আর কোনও আশা নেই। বার্ধক্যের কারণে সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং দেখভালের দুশ্চিন্তায় তাঁর বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিতে গিয়ে শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটকের বিখ্যাত উক্তি ‘টু বি অর নট টু বি’ এবং মার্কিন মন্ত্রী হেনরির দর্শন উল্লেখ করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যখন কোনও রোগীর আরোগ্য লাভের বিন্দুমাত্র আশা থাকে না, তখন কৃত্রিমভাবে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার চিকিৎসার আর কোনও অর্থ হয় না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লির এইমস হাসপাতালে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে হরিশের শরীর থেকে সমস্ত লাইফ সাপোর্ট ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হবে।

২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু’কে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই হরিশ রানার পরিবারকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ এক ক্লান্তিকর লড়াইয়ের শেষে আদালতের এই মানবিক রায়ের মাধ্যমে চিরশান্তির পথে যাত্রা করবেন ১৩ বছর ধরে যন্ত্রণায় কাতর থাকা এই যুবক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *