১৫ লক্ষ ফলোয়ার ও বিলাসবহুল জীবন দুবাইতে গ্রেফতার মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার রাও ইন্দরজিৎ যাদব

১৫ লক্ষ ফলোয়ার ও বিলাসবহুল জীবন দুবাইতে গ্রেফতার মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার রাও ইন্দরজিৎ যাদব

ভারতের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত নাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রাও ইন্দরজিৎ যাদবকে দুবাইতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৪ সালে হরিয়ানার এক ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে পালিয়ে যান। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে দুবাই প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেন এই মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার। সূত্রের খবর, তাকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অপরাধের সাম্রাজ্য ও দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা

রাও ইন্দরজিৎ যাদবের বিরুদ্ধে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৫টিরও বেশি মামলা এবং চার্জশিট দায়ের করেছে। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি বেশ বিস্তৃত। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের তোলা বা চাঁদাবাজি।
  • বেসরকারি ঋণদাতাদের হয়ে জোরপূর্বক ঋণের টাকা আদায় বা সেটেলমেন্ট।
  • সশস্ত্র ভয় দেখিয়ে জমি দখল ও প্রতারণা।
  • ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফাইন্যান্সার মনজিত দিঘল খুনের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা।

গ্ল্যামারের আড়ালে অন্ধকার জগত

সোশ্যাল মিডিয়ায় যাদব ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ। বলিউড সেলিব্রিটিদের সঙ্গে ছবি এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রদর্শন করে তিনি জনমানসে নিজের এক ভিন্ন ইমেজ তৈরি করেছিলেন। তিনি ‘জেম রেকর্ডস এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’ বা ‘জেমস টিউনস’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মূলত হরিয়ানভি, পাঞ্জাবি ও হিন্দি গান প্রযোজনা করে। তদন্তকারীদের দাবি, এই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির আড়ালেই তিনি একজন ‘স্ট্রংম্যান’ হিসেবে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন বিবাদ মিটিয়ে কমিশন নিতেন।

ইডির তদন্ত ও সম্পত্তির হদিশ

গত বছর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ইডি) যাদবের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরুপের তদন্ত শুরু করে। দিল্লি ও গুরগাঁওয়ে তল্লাশি চালিয়ে ইডি তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি।
  • নগদ ১৭ লক্ষ টাকা।
  • একাধিক ব্যাঙ্ক লকার ও ডিজিটাল নথি।

আত্মপক্ষ সমর্থন ও বর্তমান পরিস্থিতি

কিছুদিন আগে দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যাদব নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। তার মতে, তিনি কোনো গ্যাংস্টার নন বরং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে দুবাই প্রশাসন বর্তমানে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *