১৮ মাস পর চাকা গড়াল মৈত্রী বাসের, বিএনপি জমানায় কি ভারতের সঙ্গে বরফ গলছে বাংলাদেশের

দীর্ঘ দেড় বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফের চালু হলো আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে দীর্ঘ ১৮ মাস এই রুটে যান চলাচল স্তব্ধ ছিল। মঙ্গলবার ২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করতেই দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরল। ত্রিপুরার পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী নিজে চেকপোস্টে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের স্বাগত জানান।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও থমকে যাওয়া পরিষেবা
গত বছর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে তৈরি হওয়া চরম অরাজকতা ও রাজনৈতিক ডামাডোলের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু মন্তব্য এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে ‘রয়্যাল-মৈত্রী’ বাস পরিষেবাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে ত্রিপুরার বাসিন্দারা কার্যত রেল পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন, যা অনেকের জন্য ছিল ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
বন্ধুত্বের নতুন সমীকরণ
মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশে বিএনপি বা নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের আবহে এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়াকে অনেকেই ভিন্ন নজরে দেখছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সম্পর্কের এই শীতলতা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশই এখন সচেষ্ট। পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছেন যে, উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা অপরিহার্য। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই এই রুটে ফের বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সময়সূচী ও রুট ম্যাপ
আপাতত সপ্তাহে দুই দিন করে এই আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে খুব দ্রুতই বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার যখন কলকাতা থেকে একটি বাস ঢাকা হয়ে আগরতলায় পৌঁছায়, ঠিক তখনই অন্য একটি বাস আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। দীর্ঘ ১৮ মাস পর এই রুটটি সচল হওয়ায় ব্যবসায়িক এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হবেন।
এই বাস পরিষেবা চালু হওয়া কি দুই দেশের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা? সময় সেই উত্তর দেবে, তবে আপাতত রাজপথের এই মৈত্রী দুই বাংলার মানুষের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।