১ এপ্রিল থেকে নতুন শ্রম আইন: কমতে পারে হাতের বেতন, বাড়তে পারে অবসরকালীন সঞ্চয়

আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে নতুন চারটি শ্রম আইন ও আয়কর বিধি। এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে বেসরকারি খাতের চাকুরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল আসবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মচারীর মূল বেতন বা বেসিক পে অবশ্যই মোট সিটিসি (CTC)-র অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। এর ফলে এতদিন বিভিন্ন ভাতার মাধ্যমে মূল বেতন কমিয়ে রাখার যে প্রবণতা ছিল, তার অবসান ঘটবে এবং বেতন স্লিপে ভাতার পরিমাণ মোট বেতনের অর্ধেক বা তার কম হয়ে যাবে।
মূল বেতন বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটি গণনার ওপর। যেহেতু এই খাতগুলোতে কর্তন করা হয় মূল বেতনের ভিত্তিতে, তাই বিমা ও ভবিষ্যৎ তহবিলে জমার পরিমাণ বাড়বে। এর ফলে কর্মচারীদের প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতন বা ‘ইন-হ্যান্ড স্যালারি’ কিছুটা কমতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে নগদ টাকার টান পড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি কর্মীদের অবসরকালীন তহবিলকে আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করবে। এছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মীদের ক্ষেত্রে এখন থেকে মাত্র এক বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটি পাওয়ার সুবিধা মিলবে।
বেতন ছাড়াও কাজের সময় এবং কর্মসংস্থানের অন্যান্য শর্তেও পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়মে সপ্তাহে মোট কাজের সময় ৪৮ ঘণ্টা নির্ধারিত হয়েছে এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য দ্বিগুণ পারিশ্রমিকের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো কর্মী চাকরি ছাড়লে বা ছাঁটাই হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তার যাবতীয় পাওনা বা ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ নিষ্পত্তি করতে কো ম্পা নি বাধ্য থাকবে। আয়কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও মূল বেতন বাড়লে পুরনো কর কাঠামোয় থাকা ব্যক্তিদের এইচআরএ (HRA) সংক্রান্ত হিসেবে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।