১ এপ্রিল থেকে বদলে যাচ্ছে আয়কর জমানার চালচিত্র! পকেটে টান নাকি স্বস্তি? জেনে নিন ১০টি বড় পরিবর্তন

নতুন অর্থবছর শুরুর আগেই বড় ঘোষণা কেন্দ্রের। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হচ্ছে ‘ইনকাম-ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫’, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে আপনার বেতন থেকে শুরু করে ডিজিটাল লেনদেনে। এক নজরে দেখে নিন কোন ১০টি নিয়মে আমূল বদল আসছে:
ডিজিটাল দুনিয়ায় ট্যাক্সের কোপ
গুগল, মেটা বা টিকটকের মতো বিদেশি সংস্থাগুলোর ভারতে অফিস না থাকলেও এখন থেকে কর দিতে হবে। যদি ভারতে তাদের ৩ লক্ষের বেশি ইউজার থাকে বা আয় ২ কোটি টাকা ছাড়ায়, তবে তারা ভারতীয় কর কাঠামোর আওতায় আসবে।
বেতন ও ভাতায় নতুন নিয়ম
চাকরিজীবীদের নেট স্যালারিতে প্রভাব পড়তে চলেছে। বাড়ি ভাড়া (HRA) এখন শহরের জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। বিনামূল্যে খাবারের ওপর করমুক্ত সুবিধা মিলবে মাত্র ২০০ টাকা পর্যন্ত এবং ১৫ হাজার টাকার বেশি উপহার এখন করযোগ্য।
অফিস লোনে বাড়বে খরচ
সংস্থা থেকে কম সুদে বা বিনাসুদে ঋণ নিলে এখন এসবিআই-এর সুদের হারের ভিত্তিতে ট্যাক্স গুনতে হবে। ফলে এই ধরনের ঋণের সুবিধা আগের চেয়ে মহার্ঘ হতে চলেছে।
শেয়ার বাজারে কড়া নজরদারি
স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে এখন প্রতিটি ট্রেডের অডিট ট্রেইল ৭ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। শেয়ারের সঠিক বাজারমূল্য (FMV) নির্ধারণের পদ্ধতিও স্পষ্ট করা হয়েছে, যাতে জালিয়াতি বন্ধ হয়।
ESOP এবং বিদেশি লেনদেন
স্টার্টআপ কর্মীদের জন্য ESOP-এর ট্যাক্স হিসেব এখন আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি শেয়ার ট্রান্সফারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফর্মুলা মেনে কর নির্ধারণ করা হবে।
কড়া হচ্ছে জিরো কুপন বন্ড
অবকাঠামো বিনিয়োগে ব্যবহৃত এই বন্ডের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ বছরের ম্যাচিউরিটি এবং ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড রেটিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পুরানো ১৯৬১ সালের আইনকে সরিয়ে এই নতুন আধুনিক ও ডিজিটাল-বান্ধব কর ব্যবস্থা চালুর মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কর ফাঁকি রোধ করা। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোর হওয়ায় সাধারণ করদাতাদের ওপর কমপ্লায়েন্সের চাপ বাড়তে পারে।