১ বছর কাজ করলেই মিলবে গ্র্যাচুইটি শ্রম কোডে ঐতিহাসিক বদল

ভারতে নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার ফলে কর্মীদের গ্র্যাচুইটি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মাত্র এক বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করলেই কর্মীরা গ্র্যাচুইটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা মূলত নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
নতুন এই নিয়মের সবথেকে বড় সুবিধা পাবেন ফিক্সড-টার্ম বা নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে কর্মরত এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। আগে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর টানা কাজ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এখন ফিক্সড-টার্ম কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ‘প্রো-রাটা’ বা আনুপাতিক হারে গ্র্যাচুইটি প্রদান করা হবে। তবে স্থায়ী বা রেগুলার কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরের শর্তটি আগের মতোই বহাল থাকছে।
শ্রম কোডে গ্র্যাচুইটি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে মজুরির সংজ্ঞাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মীর বেসিক বেতন, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং রিটেনিং অ্যালাউন্স মিলিয়ে মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। যদি কোনও কর্মীর ভাতাসমূহ মোট সিটিসি-র ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
বেসিক বেতনের এই পুনর্গঠনের ফলে কর্মীদের প্রাপ্ত গ্র্যাচুইটির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্র্যাচুইটির অঙ্ক প্রায় ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আগে অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেসিক বেতন মোট বেতনের ৩০ শতাংশের কাছাকাছি রাখা হতো, যা এখন বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় গ্র্যাচুইটি গণনার ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন শ্রম কোডটি দেশের শ্রমবাজারে বিশেষ করে অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করেই কাজের মেয়াদের ভিত্তিতে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য। নিয়োগকর্তাদের এখন নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি তহবিলের বরাদ্দ বাড়াতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করবে।