১ লাখের সুপারি দিয়ে পথের কাঁটা সরাল স্ত্রী! প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে স্বামীকে নৃশংস খুন

মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার গোঁদিখেড়া চারণ গ্রামে এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিজের বিবাহিত জীবনের কাঁটা সরাতে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের চক্রান্ত করেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক পরিকল্পিত খুনের নীল নকশা, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
সাজানো ডাকাতির আড়ালে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছিল, রাতে একদল দুষ্কৃতী দেবকৃষ্ণ রোহিত নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চড়াও হয়। তারা দেবকৃষ্ণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে হাত-পা বেঁধে রেখে সর্বস্ব লুঠ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর প্রিয়াঙ্কা নিজেই চিৎকার করে গ্রামবাসীদের জড়ো করেন এবং পুলিশকে জানান যে, দুষ্কৃতীরা তাঁর স্বামীকে খুন করে ডাকাতি করেছে।
পুলিশের সন্দেহ ও তদন্তের মোড়
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রিয়াঙ্কার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করে। তদন্তকারী দল দেখেন যে, বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো চিহ্ন নেই। এরপর কল ডিটেলস এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করার পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কাকে কড়া জেরা শুরু করতেই আসল সত্য সামনে আসে। পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে প্রিয়াঙ্কা স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেই স্বামীকে খুনের সুপারি দিয়েছিলেন।
ত্রিকোণ প্রেমের টানাপোড়েন ও ষড়যন্ত্র
তদন্তে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকেই একই গ্রামের কমলেশ নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় প্রিয়াঙ্কা স্বামীর ঘর করতে আগ্রহী ছিলেন না এবং প্রায়ই বাপের বাড়ি চলে যেতেন। প্রেমিক কমলেশের সঙ্গে স্থায়ীভাবে থাকতে চেয়েই তিনি এই খুনের পরিকল্পনা করেন।
খুনের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পেশাদার:
- প্রিয়াঙ্কার প্রেমিক কমলেশ সুরেন্দ্র নামে এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে খুনের সুপারি দেয়।
- ঘটনার রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সুরেন্দ্র বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত দেবকৃষ্ণকে আক্রমণ করে।
- খুনের পর ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে প্রিয়াঙ্কাকে বেঁধে রাখা হয় এবং লুটের নাটক সাজানো হয়।
দ্রুত রহস্যভেদ ও গ্রেফতার
এসপি ময়ঙ্ক অবস্থীর নেতৃত্বে পুলিশ দল মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই জটিল রহস্যের সমাধান করেছে। পুলিশ প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর প্রেমিক কমলেশকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে তথাকথিত লুটের সামগ্রীও। দেবকৃষ্ণের পরিবারের দাবি, এই পরকীয়া সম্পর্কের জেরে দীর্ঘ দিন ধরেই সংসারে অশান্তি চলছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।
একঝলকে
- ঘটনা: স্বামীকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন ও ডাকাতির নাটক।
- স্থান: গোঁদিখেড়া চারণ গ্রাম, ধার জেলা, মধ্যপ্রদেশ।
- মূল অভিযুক্ত: স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁর প্রেমিক কমলেশ।
- খুনের কারণ: পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা।
- সুপারি মূল্য: ঘাতক সুরেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ টাকা।
- তদন্তের ফল: ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত স্ত্রী ও প্রেমিক গ্রেফতার।