২০০০ বছরের পুরনো মমি স্ক্যানে মিলল আধুনিক মারণ রোগের ইঙ্গিত

২০০০ বছরের পুরনো মমি স্ক্যানে মিলল আধুনিক মারণ রোগের ইঙ্গিত

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা আধুনিক ৩২০-স্লাইস সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির সাহায্যে দুই হাজার বছরের প্রাচীন দুই মিশরীয় পুরোহিত, নেস-মিন ও নেস-হোরের মমিতে চাঞ্চল্যকর স্বাস্থ্য সমস্যার সন্ধান পেয়েছেন। উচ্চ রেজোলিউশনের প্রায় ৫০ হাজার ছবি এবং ত্রিমাত্রিক মডেল বিশ্লেষণের মাধ্যমে উঠে এসেছে যে, প্রাচীন আমলের এই মানুষদের শারীরিক সমস্যাগুলোর সঙ্গে বর্তমান যুগের মানুষের জীবনযাত্রাজনিত রোগের আশ্চর্যজনক সাদৃশ্য রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নেস-মিন মেরুদণ্ডের অবক্ষয় ও তীব্র কোমর ব্যথায় ভুগতেন, যা আজকের দিনের দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা পেশাজীবীদের মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত বয়স্ক নেস-হোরের নিতম্বে হাড়ের ক্ষয় এবং দাঁতের গুরুতর সমস্যা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, ধর্মীয় আচার পালনের জন্য দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে থাকার ফলে তাঁদের শরীরে এই দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রযুক্তিগত এই উৎকর্ষ কেবল তাঁদের রোগব্যাধিই নয়, বরং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিশেষত্বও উন্মোচন করেছে। মমির লিনেনের ভাঁজে মাছ ও স্ক্যারাব পোকা-আকৃতির সুরক্ষা কবজ পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন মিশরের দেহ সংরক্ষণ ও পরলৌকিক বিশ্বাসের প্রতীক। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, সহস্রাব্দ পেরিয়ে গেলেও বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতা ও জীবনশৈলীর প্রভাব মানবদেহে অপরিবর্তিত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *