২০২৬ নির্বাচনে আরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল, শান্তিপুরের সভা থেকে চ্যালেঞ্জ মমতার

২০২৬ নির্বাচনে আরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল, শান্তিপুরের সভা থেকে চ্যালেঞ্জ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রতিপক্ষকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে দ্বৈরথ যখন চরমে, ঠিক তখনই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল তৃণমূল নেত্রীর গলায়। জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, মানুষের সমর্থন এবং উন্নয়নের নিরিখে এবার গতবারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে বাংলায় পুনরায় সরকার গঠন করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

শান্তিপুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দিয়ে জানান, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই তিনি নিজে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। এদিন বিরোধীদের প্রচার কৌশলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি সকাল থেকে জয়ী হওয়ার গুজব ছড়ালেও বাস্তবে ফলাফল হবে অন্য। মানুষের চোখের ভাষা এবং আবেগ বুঝতে পেরে তিনি নিশ্চিত যে, এবার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে। এই নির্বাচনকে মানুষের বাঁচার লড়াই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পাল্টা জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোথাবাড়ির ঘটনা এবং সিআইডি তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নিজের দলের লোকদের আড়াল করতে কেন্দ্রীয় শক্তির অপব্যবহার করছে। পাশাপাশি এসআইআর পর্বে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় কাউকে উচ্ছেদ হতে দেবেন না তিনি। ভোটার তালিকায় ২৫ লক্ষ নাম ফেরাতে সক্ষম হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং আত্মহত্যার পথ বেছে না নেওয়ার অনুরোধ জানান।

বিজেপির ক্ষমতা দখলের স্বপ্নকে নস্যাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, ২০২৬ সালের পর কেন্দ্রেও পরিবর্তনের হাওয়া বইবে। তিনি সাফ জানান, ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে দমানো যাবে না। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করবে। বিন্যাস ও কৌশলী প্রচারের মধ্য দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন উন্নয়নের খতিয়ান মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে মরিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *