২০২৬ নির্বাচনে বঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে? বড় আপডেট দিলেন শমীক ভট্টাচার্য

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কোনো নির্দিষ্ট নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বা ‘সিএম ফেস’ হিসেবে ঘোষণা করবে না। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে কোনো একক মুখ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব এবং তাঁর ‘বিকাশের এজেন্ডা’কে সামনে রেখেই নির্বাচনী ময়দানে ঝাঁপাবে গেরুয়া শিবির।
দলের রণকৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য হরিয়ানা, দিল্লি এবং ওড়িশার উদাহরণ টেনে বলেন, ওই রাজ্যগুলোতেও বিজেপি কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছাড়াই জয়ী হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সংসদীয় বোর্ড। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ে যিনি প্রধান মুখ হয়ে উঠবেন, ভবিষ্যতে তিনিই এই পদের দাবিদার হতে পারেন।
নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শমীকবাবু জানান, শুভেন্দু এবার ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড়েই চ্যালেঞ্জ জানানো এবং ২০২১-এর নন্দীগ্রামের জয় যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, তা প্রমাণ করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি, আসন্ন ভোটে অনুপ্রবেশ সমস্যাকেই বিজেপি তাদের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চলেছে। ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি সভাপতি জানান, তাঁরা নীতিগতভাবে এর পক্ষপাতী নন। তবে গত পাঁচ বছরে রাজ্যে হওয়া দুর্নীতির কড়ায়-গন্ডায় হিসাব নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে মুসলিম ভোটারদের তোষণ ও ভোটব্যাংকের রাজনীতি ছেড়ে মূলধারার শিক্ষা ও উন্নয়নে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান শমীক ভট্টাচার্য। ২০২৬-এর মহারণের আগে মোদি-ম্যাজিকের ওপর ভরসা রাখার এই কৌশল রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।