২০২৬ নির্বাচনে বামেদের মেগা চমক, ২০ লক্ষ কর্মসংস্থান ও বিনামূল্যে বিদ্যুতের অঙ্গীকার

আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈপ্লবিক নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। ধর্মীয় মেরুকরণ নয়, বরং ‘কাজ’ এবং ‘রুজি-রুটির’ লড়াইকে মূল হাতিয়ার করে ‘বাংলার পুনর্জাগরণ’-এর ডাক দিয়েছে তারা। এই ইস্তাহারে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমস্ত সরকারি শূন্যপদ স্বচ্ছতার সঙ্গে পূরণের বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিল্পায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় শিল্প তালুক ও আইটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে ইস্তাহারে।
সাধারণ মানুষের স্বস্তিতে বামেদের অন্যতম বড় ঘোষণা ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ পরিষেবা। এছাড়া বিতর্কিত প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ন্যূনতম ৭০০ টাকা মজুরি এবং কৃষকদের ১৬টি ফসলে দেড় গুণ সহায়ক মূল্য (MSP) দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বামফ্রন্ট। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের বড় অংশ বরাদ্দের পাশাপাশি স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুবের সাহসী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় স্বশাসিত ‘অভয়াবাহিনী’ গঠন এবং ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরির মাধ্যমে ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মাসিক ৬,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতার ঘোষণা করে সামাজিক সুরক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং তফশিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য পৃথক উন্নয়ন বোর্ড গঠন ও সংরক্ষণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে এই ইস্তাহারে।
মৌলবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দিতে চায় বামফ্রন্ট। মন্দির-মসজিদ কেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে কর্মসংস্থান ও জনপরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। মূলত ‘তোলাবাজ-মুক্ত নতুন বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই এবারের নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হচ্ছে তারা।