২০২৯ থেকেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর লক্ষ্য, কোচবিহারের সভা থেকে সব দলকে পাশে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৯ থেকেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর লক্ষ্য, কোচবিহারের সভা থেকে সব দলকে পাশে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই দেশে মহিলা সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে তৎপর কেন্দ্র। রবিবার কোচবিহারের এক নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আটকে থাকা মা-বোনেদের এই অধিকার সুনিশ্চিত করতে আর দেরি করা সমীচীন নয়।

এদিন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কোনো রাজ্যেরই প্রতিনিধিত্ব কমবে না। বিশেষ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলিকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮১৬ করার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত রাজনৈতিক দলকে দলমত নির্বিশেষে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার এবং সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাসের আহ্বান জানান।

একই মঞ্চ থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকেও তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলে অভিযোগ করেন। মোদী বলেন, যেখানে বিচারক বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। দুর্নীতি, কাটমানি এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল সরকারকে তাদের প্রতিটি ‘পাপের’ হিসাব দিতে হবে এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিচার হবে।

কোচবিহারের জনসভায় মানুষের ভিড় দেখে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এবার বাংলা থেকে ভয়ের পরিবেশ দূর হবে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেন যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করা হবে এবং রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষিত হবে ৪ মে। প্রধানমন্ত্রী বাংলার নারীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরাও রাজনৈতিক দলগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে সংসদে এই বিলটি দ্রুত পাস হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *