২০২৯ নয় এখনই চাই সুফল, মহিলা সংরক্ষণের আগে জনশুমারির দাবিতে সরব অখিলেশ যাদব

২০২৯ নয় এখনই চাই সুফল, মহিলা সংরক্ষণের আগে জনশুমারির দাবিতে সরব অখিলেশ যাদব

সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার সময়সীমা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব। ২০২৯ সালে এই আইন কার্যকর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের পাল্টায় অখিলেশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া কোনো স্তরেই প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব নয়। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সপা প্রধান দাবি করেন, অবিলম্বে দেশজুড়ে জনশুমারি বা সেন্সাস প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

অখিলেশ যাদবের মতে, যেকোনো সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সঠিক পরিসংখ্যান। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে গণনাই ভুল সেখানে সংরক্ষণের সুফল কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে? কোনো গঠনমূলক কাজ করার সদিচ্ছা থাকলে সেখানে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ বিলের বর্তমান পরিকাঠামোকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, সংখ্যাতত্ত্ব ছাড়া এই বিলের কোনো বাস্তব উপযোগিতা নেই এবং বিজেপি সরকার কেবল বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি অনুযায়ী, সংসদের মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার অর্থ হলো এটি সম্পূর্ণ গণিতের বিষয়। আর গণিতের মূল ভিত্তি হলো সংখ্যা বা অংক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই সংখ্যার উৎস হওয়া উচিত হালনাগাদ জনশুমারি। বর্তমানে ২০১১ সালের পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যদি মহিলাদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়, তবে সংরক্ষণের সেই ভিতটিই নড়বড়ে থেকে যাবে। অখিলেশের কথায়, জমির গুণমান খারাপ হলে যেমন ভালো ফসল আশা করা যায় না, তথ্য ভুল থাকলে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যও সফল হবে না।

বিজেপি সরকারের নীতির সমালোচনা করে অখিলেশ আরও বলেন, যারা মহিলাদের প্রকৃত সংখ্যা জানতেই আগ্রহী নয়, তারা কীভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করবে? সমাজবাদী পার্টি বরাবরই অনগ্রসর ও মহিলাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার। তাই কেন্দ্রের এই পরিকল্পনার পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র বা ছলনা রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে বিজেপি ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

পরিশেষে সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, জনশুমারি ছাড়া মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। অখিলেশ যাদবের সাফ কথা, আগে গণনা হবে তারপরই নির্ধারিত হবে সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ। তথ্যগত স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত এই ইস্যুতে কোনো সমঝোতা করবে না সপা। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে আগামী দিনে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বাস্তবায়ন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *