২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ২৫ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ বাড়ছে স্বাস্থ্য ও ফার্মা ক্ষেত্রে

ভারতের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বিশেষ করে যারা চিকিৎসা ও ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী, তাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। বিশ্বখ্যাত কর্মসংস্থান পরামর্শদাতা সংস্থা ‘অ্যাডেক্কো ইন্ডিয়া’-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী চার বছরে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ফার্মা সেক্টর কর্মসংস্থানের খনি হয়ে উঠতে চলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই দুই খাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের জিডিপিতে স্বাস্থ্য ও ফার্মা খাতের অবদান ৩.৩ শতাংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক স্তরে ওষুধ উৎপাদন এবং ক্লিনিক্যাল রিসার্চের কাজ ভারতে আউটসোর্সিং হওয়ার কারণেই এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ঘটছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্পে নিয়োগের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল হাসপাতালেই নয়, বরং আয়ুষ, প্রবীণদের যত্ন, ডায়াগনস্টিক্স, টেলিমেডিসিন এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগের হিড়িক পড়বে। বিশেষ করে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং রেগুলেটরি বিভাগে নিয়োগ ২৫-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলো বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে।
তবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও দক্ষতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশের দক্ষতা বৃদ্ধির (Upskilling) বিশেষ প্রয়োজন। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে নতুন দক্ষতা অর্জন না করলে আগামীর এই সুযোগগুলো কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে।
দেশের বড় শহরগুলো এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে। মোট চাকরির প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ তৈরি হবে কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই এবং দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে। পাশাপাশি পুনে এবং আহমেদাবাদের মতো শহরগুলোতেও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলোতেও ডায়াগনস্টিক্স এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদা ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে মফস্বল এলাকাগুলোতেও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিগত চিকিৎসাবিদ্যা ও ফার্মা কোর্সে শিক্ষিত যুবসমাজের সামনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।