২২ লাখ কোটির সাম্রাজ্য! আমেরিকার সিংহাসন কাড়তে ভারতের ‘মাস্টারপ্ল্যান’

বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অটোমোবাইল বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করেছে। জাপানকে পেছনে ফেলে এই মাইলফলক অর্জনের পর ভারতের লক্ষ্য এখন আরও উঁচুতে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করির সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ বছরের মধ্যে চীন ও আমেরিকাকে টপকে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অটোমোবাইল হাবে পরিণত হতে যাচ্ছে।
বাজারের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি
গত এক দশকে ভারতের অটোমোবাইল খাতের চিত্র আমূল বদলে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে এই খাতের বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে তা তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও চীন (৪৯ লক্ষ কোটি টাকা) এবং আমেরিকা (৭৯ লক্ষ কোটি টাকা) বর্তমানে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে, তবুও প্রবৃদ্ধির গতি বজায় থাকলে ভারত শীঘ্রই শীর্ষস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্নতির মূল চালিকাশক্তি
এই দ্রুত অগ্রগতির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে:
- বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার: পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রিক যানবাহন (EV), হাইড্রোজেন ফুয়েল এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি খরচও সাশ্রয় করবে।
- পরিবহন খরচ হ্রাস: বর্তমানে ভারতে পণ্য পরিবহনের খরচ তুলনামূলক বেশি। জলপথের ব্যবহার বাড়িয়ে এই খরচ কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সড়কপথে পরিবহনে ১০ টাকা খরচ হলে রেলপথে খরচ হয় ৬ টাকা, কিন্তু জলপথে এই খরচ মাত্র ১ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
- বর্জ্য থেকে সম্পদ: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টিল শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্য (স্টিল স্ল্যাগ) এখন রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিকাঠামো নির্মাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অটোমোবাইল সেক্টরের গুরুত্ব
ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই সেক্টরকে। বর্তমানে প্রায় ৪.৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া জিএসটি (GST) সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারের আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে এখান থেকে। গাড়ি রপ্তানি বা এক্সপোর্ট বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনাও এই মাস্টার প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত।
একঝলকে
- লক্ষ্য: আগামী ৭ বছরের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অটোমোবাইল বাজার হওয়া।
- বর্তমান অবস্থান: জাপানকে পেছনে ফেলে ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অটো বাজার।
- বাজারের আকার: ২০১৪ সালের ৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ২২ লক্ষ কোটি টাকা।
- নির্ভরতা: ইলেকট্রিক যানবাহন ও হাইড্রোজেন ফুয়েলের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে গুরুত্ব।
- সাশ্রয়: পণ্য পরিবহনের খরচ কমাতে সড়কপথের বদলে জলপথের ওপর জোর।
- কর্মসংস্থান: এই খাতের মাধ্যমে প্রায় ৪.৫ কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন।