৩০-পরবর্তী শারীরিক পরিবর্তন ও সারকোপেনিয়া রুখতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

৩০-পরবর্তী শারীরিক পরিবর্তন ও সারকোপেনিয়া রুখতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ত্রিশ বছর বয়সের পর থেকেই মানবশরীরে মেটাবলিজম বা বিপাক হার কমতে শুরু করে, যার ফলে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে প্রতি দশকে শরীর থেকে প্রায় ৩-৮ শতাংশ পেশির ভর হ্রাস পেতে পারে। পেশি কমে যাওয়ার এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সারকোপেনিয়া’ বলা হয়। পেশি টিস্যু বিশ্রামের সময়ও ক্যালোরি খরচ করে, তাই এর ঘাটতি শরীরের সামগ্রিক শক্তি ব্যয়ের হার কমিয়ে দেয়।

হরমোনজনিত পরিবর্তনও এই বয়সে পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ার ফলে হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পায়, যা পরবর্তীকালে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এই পরিবর্তনগুলো অনেক সময় কোনো বড় উপসর্গ ছাড়াই নিঃশব্দে ঘটতে থাকে। তাই শরীরের গঠনগত এই বদলগুলো সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওজন তোলার ব্যায়াম পেশি ধরে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ মেটাবলিজম বাড়াতে এবং হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত হাঁটাচলা এবং সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুললে সারকোপেনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক সময়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে বয়স বাড়লেও শরীরকে দীর্ঘকাল সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *