৩১ মার্চের আগে এই কাজ না করলে পস্তাতে হবে! নিশ্চিত কর ছাড় পেতে দ্রুত সেরে নিন এই কাজগুলো

৩১ মার্চ দোরগোড়ায়। হাতে সময় মাত্র কয়েকটা দিন। এর মধ্যেই যদি আপনি আপনার কর সংক্রান্ত পরিকল্পনা গুছিয়ে না নেন, তবে পকেট থেকে বাড়তি টাকা বেরিয়ে যাওয়া নিশ্চিত। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নীতিন কৌশিকের মতে, সময়সীমা পার হওয়া মানেই হলো নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এবং করের বোঝা কমাতে এখনই নজর দিন এই বিষয়গুলোতে।
৮০-সি ধারায় বিনিয়োগ নিশ্চিত করুন
যাঁরা পিপিএফ (PPF) বা ইএলএসএস (ELSS)-এর মতো প্রকল্পে বিনিয়োগ করে কর ছাড় পেতে চান, তাঁদের জন্য ১.৫ লক্ষ টাকার এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩১ মার্চের মধ্যে এই বিনিয়োগ সম্পন্ন না করলে আইনত এই ছাড় পাওয়ার আর কোনো পথ থাকবে না। এটি অনেকটা ‘নিশ্চিত প্রতিদান’ যা হাতছাড়া করা মানেই আর্থিক লোকসান।
ট্যাক্স হারভেস্টিং ও মুনাফা নিশ্চিত করা
দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভের ক্ষেত্রে ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা এই সময়ের মধ্যে তাঁদের মুনাফা তুলে নিয়ে পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে ভবিষ্যতের করের হার কার্যত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। অন্যথায় পরবর্তীতে ১২.৫ শতাংশ হারে কর গুণতে হতে পারে। এছাড়া, লোকসানে থাকা শেয়ার বা সম্পদ বিক্রি করে লাভের সঙ্গে সমন্বয় করলে করযোগ্য আয় অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।
বাড়ি ভাড়ায় বিশেষ ছাড়
চাকরিজীবীরা বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) পেলেও অনেকে তা পান না। তাঁদের জন্য রয়েছে ৮০-জিজি (Section 80GG) ধারা। ৩১ মার্চের আগে ‘ফর্ম ১০বিএ’ জমা দিয়ে বছরে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের দাবি করা সম্ভব। এই সহজ সুযোগটি অনেকেই না জানার কারণে হাতছাড়া করেন।
জরিমানা এড়াতে অগ্রিম কর
১৫ মার্চের অগ্রিম কর দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি। ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া কর মিটিয়ে দিলে ২৩৪বি এবং ২৩৪সি ধারা অনুযায়ী মাসিক ১ শতাংশ হারে সুদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। সময়মতো কর পরিশোধ করলে জরিমানার এই ‘ঘড়ি’ থেমে যায়।
মনে রাখবেন, কর আইন কোনো পরামর্শ নয়, এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম। এই নিয়মের সুবিধা না নেওয়া মানেই হলো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কর দেওয়ার দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। তাই আর দেরি না করে ৩১ মার্চের মধ্যেই সেরে ফেলুন আপনার প্রয়োজনীয় আর্থিক কাজগুলো।