৩৫ দিন বন্ধ থাকছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রিফাইনারি, ৬০০০ পেট্রোল পাম্পে কি তবে জ্বালানি সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে, ঠিক তখনই ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দুশ্চিন্তার খবর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি রিফাইনারি ‘নায়ারা এনার্জি’ গুজরাটের ভাদিনার প্ল্যান্টটি টানা ৩৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই শাটডাউন ডাকা হলেও, এর টাইমিং নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরবরাহে ৮ শতাংশ ঘাটতির সম্ভাবনা বছরে ২ কোটি টন তেল শোধন করার ক্ষমতাসম্পন্ন এই রিফাইনারি ভারতের মোট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। টানা ৩৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের জোগানে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বর্তমানে দেশজুড়ে নায়ারা এনার্জির ৬,৩০০-র বেশি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই শাটডাউন চললে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিমুখী সংকটে জ্বালানি বাজার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এবার ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে চড়া দামে তেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সংস্থার দাবি, আপাতত পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে, তবুও ৩৫ দিনের দীর্ঘ বিরতি বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি পাম্পে উপচে পড়া ভিড়ের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, নায়ারা এনার্জির পাম্পগুলোতে তেলের জোগান কমলে গ্রাহকদের চাপ বাড়বে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), বিপিসিএল (BPCL) এবং এইচপিসিএল (HPCL)-এর মতো সরকারি পাম্পগুলোতে। এর ফলে লজিস্টিক সমস্যা ও স্টকের অভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় পেট্রোল-ডিজেলের হাহাকার তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।