৩৬ দিনের ডিজিটাল অন্ধকার পার, ইরানে বিশ্বের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

৩৬ দিনের ডিজিটাল অন্ধকার পার, ইরানে বিশ্বের দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে চলমান নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা নেট-শাটডাউন ইতিমধ্যে ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলার পর থেকে দেশটির সরকার কঠোরভাবে ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দীর্ঘমেয়াদী শাটডাউনের ফলে সাধারণ নাগরিকরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

বিশ্বের ইন্টারনেট পরিষেবা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের দীর্ঘতম ব্ল্যাকআউট। উত্তর কোরিয়ার মতো বিচ্ছিন্ন দেশ বাদে অন্য কোনো রাষ্ট্রে এর আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল অন্ধকার পরিলক্ষিত হয়নি। সরকারি কঠোর বিধি নিষেধের ফলে দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষ বর্তমানে বহির্বিশ্বের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না।

গত ৩৬ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থা কাটাতে সাধারণ মানুষ বিকল্প পথের সন্ধান করলেও তা সফল হচ্ছে না। ইরান সরকার কঠোরভাবে ভিপিএন (VPN) পরিষেবাগুলো ব্লক করে রেখেছে। ফলে নাগরিকদের পক্ষে বৈশ্বিক যোগাযোগ তো বটেই, তথ্যের আদান-প্রদানও প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে নিরাপত্তার অজুহাত দেওয়া হলেও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে।

এই ব্ল্যাকআউটের ফলে ইরানের সাধারণ জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ডিজিটাল নির্ভরতার এই যুগে ৩৬ দিনের বেশি সময় সংযোগহীন থাকা দেশটির অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার বাইরের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা এক নেতিবাচক বিশ্ব রেকর্ড তৈরি করেছে। ৮৬৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কবে নাগাদ এই পরিষেবা পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি। ফলে দেশজুড়ে এক অনিশ্চিত ডিজিটাল স্থবিরতা বজায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *