৩৬ বছর ধরে ঝাল খান না মমতা! শান্তিপুরের নির্বাচনী সভা থেকে নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

৩৬ বছর ধরে ঝাল খান না মমতা! শান্তিপুরের নির্বাচনী সভা থেকে নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

সোমবার নদিয়ার শান্তিপুরে নির্বাচনী প্রচার সভায় এসে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৩৬ বছর ধরে তিনি রান্নায় কোনো রকম ঝাল খেতে পারেন না। ১৯৯০ সালে হাজরা মোড়ে রাজনৈতিক হামলায় মাথায় গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকেই তাঁর এই শারীরিক পরিবর্তন। রান্নায় একফোঁটা ঝাল থাকলে তিনি রাতে শান্তিতে ঘুমাতেও পারেন না বলে সভায় উল্লেখ করেন।

ভোটের আবহে টানা ১৫ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দীর্ঘ সময়ে হোটেলের খাবারের বদলে ঘরোয়া সাধারণ খাবারের ওপরই ভরসা রাখছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাইরে থাকলেও তিনি মূলত চিঁড়ে, মুড়ি কিংবা বড়জোর একটি সেদ্ধ ডিম খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। চা পানের নেশা খুব একটা না থাকলেও, সকালের চা-টুকু তিনি বেশ নিয়ম মেনেই উপভোগ করেন বলে জানান।

খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি শান্তিপুরের তাঁতশিল্প নিয়েও প্রশংসা শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি জানান, এদিন তিনি যে শাড়িটি পরেছিলেন সেটি শান্তিপুরেরই শাড়ি এবং তিনি নিজের ডিজাইন করা পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। এর পাশাপাশি অতীতের ‘ফেলানি বসাক’ মামলার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেন। শান্তিপুরের বিখ্যাত বসাক পরিবারের শাড়ির বিশ্বজোড়া নাম রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিনের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী ইডি ও সিবিআইয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে কালো টাকা লেনদেনের ফাঁদ পাতা হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই সুবিধা রাজ্যের মহিলারা আজীবন পাবেন। পরিশেষে, এনআরসি প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা থেকে কাউকে উচ্ছেদ হতে দেবেন না এবং ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *