৩ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলে তবেই ছুটি ভাইরাল ম্যানেজারের নির্দেশে উত্তাল নেটপাড়া

অসুস্থতার ছুটি কি কর্মীর অধিকার নাকি ম্যানেজারের দাক্ষিণ্য? সম্প্রতি এক কর্মী ও তাঁর ম্যানেজারের কথোপকথন ঘিরে এই প্রশ্নটিই এখন কর্পোরেট দুনিয়ায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় ছুটি চাওয়াকে কেন্দ্র করে ম্যানেজারের দাবি এবং কর্মীর পালটা যুক্তি কর্মক্ষেত্রের এক জটিল চিত্র তুলে ধরেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও ম্যানেজারের বিতর্কিত অবস্থান
ভাইরাল হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক কর্মী হঠাৎ প্রবল জ্বর ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর কাজের শিফট শুরুর এক ঘণ্টা আগে ম্যানেজারকে ফোন করেন। তিনি জানান যে অসুস্থতার কারণে তিনি সেদিন কাজে আসতে পারবেন না। কিন্তু সহমর্মিতার বদলে ম্যানেজারের কাছ থেকে ধেয়ে আসে প্রশ্ন, “আপনি কি আমাকে জানাচ্ছেন, নাকি অনুমতি চাইছেন?”
পরিস্থিতি জটিল হয় যখন ম্যানেজার দাবি করেন, অসুস্থতাজনিত ছুটি (Sick Leave) তখনই গ্রাহ্য হবে যদি কর্মী টানা তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এই অদ্ভুত শর্তটি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ সাধারণত অধিকাংশ কো ম্পা নির নীতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শপত্র বা মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিলেই অসুস্থতার ছুটি পাওয়া যায়।
কো ম্পা নির নীতি বনাম ব্যক্তিগত পছন্দ
ম্যানেজারের এই দাবির বিপরীতে কর্মীটি কো ম্পা নির নীতিমালার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দুই দিনের অসুস্থতার জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেটই যথেষ্ট, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। বিতর্ক আরও বাড়ে যখন:
- ম্যানেজার তাঁকে অর্জিত ছুটি (Earned Leave) বা বিনা বেতনের ছুটি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
- কর্মী নিজের অর্জিত ছুটি বাঁচাতে চাইলে ম্যানেজার ক্ষুব্ধ হন।
- এইচআর (HR) বিভাগ মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখে ছুটি অনুমোদন করার পরেও ম্যানেজার তা মানতে অস্বীকার করেন।
গোপনীয়তা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন
ম্যানেজারের অভিযোগ ছিল, কর্মী কেন আগে তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করে সরাসরি এইচআর পোর্টালে আবেদন করলেন। এমনকি তিনি কর্মীর ব্যক্তিগত মেডিকেল রিপোর্টটি তাঁকে এবং টিম লিডকে দেখানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনাটি কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং একজন ম্যানেজারের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এইচআর যখন একবার নথি যাচাই করে ছুটি অনুমোদন করে দেয়, তখন ম্যানেজারের সেই ব্যক্তিগত নথি দেখার আইনি বা পেশাদার প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা জানাজানি হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। অধিকাংশ নেটিজেন একে “টক্সিক ম্যানেজমেন্ট” বা কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনেক ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেখানে অসুস্থতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় না, সেই কর্মস্থল ত্যাগ করাই শ্রেয়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী স্তরের ম্যানেজারদের অসহযোগিতার কারণে কো ম্পা নির ভালো ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়।