৪০টি পেট্রোকেমিক্যালে শুল্ক ছাড়ের বড় ঘোষণা, কেন্দ্রের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বিরাট স্বস্তি

৪০টি পেট্রোকেমিক্যালে শুল্ক ছাড়ের বড় ঘোষণা, কেন্দ্রের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বিরাট স্বস্তি

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে প্রভাব কমাতে ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত এই বিশেষ ছাড় কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত কাঁচামালের খরচ কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন দেশের কোটি কোটি কৃষক ও সাধারণ গ্রাহক।

বিজেপি সাংসদ দিনেশ শর্মা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কিছু সারের ওপর থেকেও শুল্ক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমদানিকৃত ৪০টি পণ্যে এই সুবিধা প্রদান করা হয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক সংকটের আঁচ ভারতের ওপর না পড়ে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের ঘাটতি মিটবে এবং খুচরো বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পিআইবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ছাড়ের ফলে প্লাস্টিক, প্যাকেজিং, টেক্সটাইল, ওষুধ এবং অটোমোবাইল শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি উপকৃত হবে। তালিকায় থাকা অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া, মিথানল, অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং পিভিসির মতো উপাদানগুলো বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরির প্রধান কাঁচামাল। আমদানিকৃত এই পণ্যগুলির খরচ কমলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি এনে দেবে।

কৃষকদের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো রাসায়নিকগুলো ইউরিয়া ও বিভিন্ন নাইট্রোজেনযুক্ত সার তৈরিতে অপরিহার্য। সারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে কৃষিকাজে খরচ কমবে। অন্যদিকে, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জলের পাইপ, বালতি, খেলনা, জুতো এবং ডিটারজেন্টের মতো সামগ্রীর দাম না বাড়ার নিশ্চয়তা তৈরি হলো এই ছাড়ের মাধ্যমে। এমনকি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ওষুধ শিল্পের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক সংকেত।

টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের ক্ষেত্রে পলিয়েস্টার এবং পিইটি চিপস অত্যন্ত জরুরি। এই কাঁচামালগুলো কাপড়, সুতো এবং পানীয় জলের বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি অটোমোবাইল পার্টস এবং ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের বডি তৈরির খরচও এর ফলে স্থিতিশীল থাকবে। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষিত থাকবে এবং কলকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *