৪৮ বছর পর ইজরায়েলকে চমকে ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক! ইরানের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ৫০,০০০ কোটি টাকা

৪৮ বছর পর ইজরায়েলকে চমকে ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক! ইরানের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ৫০,০০০ কোটি টাকা

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মোড় দেখা দিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। দীর্ঘ ৪৮ বছরের অচলাবস্থা ভেঙে ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পথে হাঁটল আমেরিকা। ট্রাম্প সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার আটকে থাকা তহবিল মুক্ত হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাকে ইরানের জন্য এক বিশাল ‘জ্যাকপট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্ধশতাব্দীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে আমেরিকা ইরানের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছিল। ২০১৬-১৭ সালের সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া গত ৪৮ বছর ধরে ইরান বিশ্ব বাণিজ্য থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল। কাতারের ব্যাংকসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ আটকে ছিল। এই তহবিল হাতে পেলে ইরান তার দেশের খাদ্য, ওষুধ ও জীবনদায়ী সামগ্রীর সংকট মেটাতে সক্ষম হবে।

অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার ও তেলের বাজার

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপে ইরানের মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর মান তলানিতে ঠেকেছে। এই বিপুল অর্থ হাতে পেলে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই আমেরিকার এই কৌশলী সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

ইসরায়েলের তীব্র ক্ষোভ ও কূটনৈতিক সংকট

আমেরিকার এই পদক্ষেপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইসরায়েলের দাবি, যখন তারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, তখন আমেরিকা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে। ইসরায়েলি নেতৃত্বের আশঙ্কা, এই অর্থের একটি বড় অংশ হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনের হাতে পৌঁছাতে পারে। ট্রাম্প সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্তে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শান্তি নাকি নতুন অস্থিরতা

এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে গত সাত সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে ইরান কি এই অর্থের বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে, নাকি এই পুঁজি ব্যবহার করে সামরিকভাবে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংশয় কাটছে না।

একঝলকে

  • মুক্ত তহবিল: প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৫০ হাজার কোটি টাকা।
  • আলোচনার স্থান: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ।
  • প্রধান লক্ষ্য: হরমুজ প্রণালী সচল করা এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা।
  • প্রভাব: ধুঁকতে থাকা ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।
  • বিরোধিতা: ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বলে দাবি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *