৫ হাজার মিসাইলের হুঙ্কার! আমেরিকার চোখে চোখ রেখে ইরান কীভাবে লড়ছে

৫ হাজার মিসাইলের হুঙ্কার! আমেরিকার চোখে চোখ রেখে ইরান কীভাবে লড়ছে

আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো মহাশক্তিদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের রণকৌশল। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও দমে যায়নি তেহরান। ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান নিজের সামরিক শক্তিকে এমনভাবে সাজিয়েছে, যা এখন পশ্চিমী দুনিয়ার কাছে এক বিরাট ধাঁধা।

১টি যুদ্ধবিমানের বদলে ৫ হাজার মিসাইল

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান জানত আধুনিক যুদ্ধবিমান বা ডুবোজাহাজ কেনা তাদের পক্ষে কঠিন। তাই তারা গুরুত্ব দিয়েছে সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের ওপর। একটি দামী যুদ্ধবিমান তৈরিতে যে খরচ হয়, সেই টাকায় ইরান প্রায় ৫ হাজার মিসাইল তৈরি করে ফেলেছে। আজ এই বিশাল মিসাইল ভাণ্ডারই তাদের প্রধান রক্ষাকবচ।

বাইকের ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি ড্রোন

অভাবই ইরানের উদ্ভাবনী শক্তির মূল উৎস। জানা গেছে, সাধারণ বাইকের ইঞ্জিন মডিফাই করে তারা সাশ্রয়ী ও কার্যকর ড্রোন তৈরি করেছে। এই ড্রোনগুলো এখন যুদ্ধক্ষেত্রে বড় বড় শক্তিধর দেশের আধুনিক অস্ত্রকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রপথে তাদের রয়েছে এমন ছোট মিসাইল বোট, যা ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে ছুটে যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম।

বিকেন্দ্রীভূত যুদ্ধনীতি ও গোপন সহায়তা

ইরান তাদের যুদ্ধ কৌশলকে ৩১টি রাজ্যে ভাগ করে দিয়েছে, যাতে প্রতিটি অংশ স্বাধীনভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। কোনো কেন্দ্রীয় কমান্ড ভেঙে পড়লেও যুদ্ধ থামবে না। পাশাপাশি রাশিয়া বা চিনের মতো দেশগুলো থেকে ইরান গোপনে স্যাটেলাইট ইনপুট পাচ্ছে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সীমিত সম্পদ নিয়ে বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে ইরানের এই লড়াই এখন সমরবিদ্যার নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *