৭০ টাকায় মিলবে পেট্রোল? জিএসটির আওতায় জ্বালানি আসতেই কি রাতারাতি কমবে দাম

সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেট থেকে শুরু করে পরিবহণ খরচ—পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দাম সবক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকলেও সাধারণ মানুষকে চড়া দরেই জ্বালানি কিনতে হয়। মূলত বর্তমান জটিল ট্যাক্স কাঠামোর কারণেই জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। যদি পেট্রোল ও ডিজেলকে জিএসটির (GST) আওতায় আনা হয়, তবে সাধারণ মানুষের পকেটে কত টাকা সাশ্রয় হবে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
বর্তমানে জ্বালানি তেলের ওপর কেন্দ্রের আবগারি শুল্ক এবং রাজ্যের ভ্যাট (VAT) যুক্ত হয়। ট্যাক্সের ওপর ট্যাক্স বসার কারণে মূল দামের চেয়ে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ বেশি টাকা দিতে হয় গ্রাহকদের। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লিতে পেট্রোলের বেস প্রাইস যেখানে ৫৫-৫৬ টাকা, সেখানে সব ধরনের শুল্ক ও ডিলার কমিশন মিলিয়ে তা ৯৫ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। জিএসটি চালু হলে এই বাড়তি করের বোঝা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের ওপর ১২ শতাংশ জিএসটি ধার্য করা হলে দামের চিত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। এক্ষেত্রে লিটার প্রতি ট্যাক্সের পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র ৬ থেকে ৭ টাকা। ফলে ডিলার কমিশন মিলিয়ে পেট্রোলের দাম ৭০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৬৮ টাকার কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। এতে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় গ্রাহকদের প্রতি লিটারে অন্তত ২০-২৫ টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এমনকি সরকার যদি জ্বালানিকে জিএসটির সর্বোচ্চ স্ল্যাব অর্থাৎ ২৮ শতাংশের অধীনে রাখে, তাহলেও দাম বর্তমানের চেয়ে কম হবে। সেক্ষেত্রে লিটার প্রতি ট্যাক্স পড়বে ১৫-১৬ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ৭৫-৮০ টাকার মধ্যে থাকবে। বর্তমান ট্যাক্স কাঠামোর তুলনায় এটিও সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে গণ্য হবে।
তবে এই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজস্ব ক্ষতি। ভ্যাট থেকে প্রাপ্ত আয় রাজ্য সরকারগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ। জ্বালানি জিএসটির আওতায় এলে রাজ্যগুলোর সরাসরি আয় কমে যাবে। এই ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়েই এখন কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। তবুও আমজনতার স্বার্থে জ্বালানিকে জিএসটির আওতায় আনার দাবি ক্রমে জোরালো হচ্ছে।