“৯০ লক্ষ নাম বাদ দিলেও জয় আমাদেরই হবে!” মিনাখাঁ থেকে মোদী সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তুঙ্গে। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর নির্বাচনী জনসভা থেকে এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের জয় কেউ আটকাতে পারবে না।
গণতন্ত্র বিক্রির অভিযোগ ও পাল্টাচাল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেন্দ্রীয় শাসকদলকে নিশানা করে বলেন যে, তারা গণতন্ত্রকে ‘চৈত্র মাসের সেলের’ মতো সস্তা করে দিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়াকে তিনি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিছু হটতে নারাজ তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস কেবল লড়াই করবে না, বরং জয়ী হয়ে ফিরে আসবে। তাঁর ভাষায়, “এভরি অ্যাকশন হ্যাজ় ইটস রিঅ্যাকশন”, অর্থাৎ প্রতিটি অন্যায়ের পাল্টা জবাব সাধারণ মানুষ ব্যালট বক্সেই দেবেন।
আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে। এই উদ্বেগ নিরসনে তৃণমূল নেত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, দল তাঁদের পাশে আছে। তিনি জানান:
- যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
- ইতিমধ্যেই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া সফল হয়েছে।
- বাকিদের নাম দ্রুত ফেরানোর জন্য দলের পক্ষ থেকে যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নাম বাদ দেওয়ার পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তি
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে বিভিন্ন তথ্য সামনে আনা হয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৯০ লক্ষ নাম বাদের কথা বললেও, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, ২৭ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১০ লক্ষ হিন্দু বাঙালির নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগত পার্থক্য থাকলেও মূল লক্ষ্য একটিই—ভোটার তালিকা সংশোধনে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও কারচুপির অভিযোগ সামনে আনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যুতে সুর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে প্রান্তিক ভোটারদের আবেগ ও সমর্থনকে সংহত করতে চাইছেন। নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তাকে আইনি ও রাজনৈতিক ঢাল দিয়ে মোকাবিলা করার বার্তা দিয়ে তৃণমূল প্রমাণ করতে চাইছে যে তারাই জনগণের একমাত্র রক্ষাকর্তা। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘নাম বাদ’ ইস্যু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বড় নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
একঝলকে
- ঘটনাস্থল: মিনাখাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা।
- প্রধান অভিযোগ: প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা: প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।
- গৃহীত পদক্ষেপ: ৩২ লক্ষ নাম পুনরুদ্ধার হয়েছে, বাকিদের জন্য তৃণমূল আইনজীবী দেবে।
- অভিযোগের সুর: গণতন্ত্রকে সস্তায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে বিজেপিকে আক্রমণ।