৯০ লক্ষ ভোটারের নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ মমতার

৯০ লক্ষ ভোটারের নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ মমতার

মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের হাড়োয়া সার্কাস ময়দানে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও বিজেপির কৌশল

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে বাংলার মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, দিল্লির সরকার সুকৌশলে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। মমতার অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ভোটার তালিকায় কারচুপি: নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে বাংলার প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
  • গণতন্ত্রের অবক্ষয়: বাবাসাহেব আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানকে ধ্বংস করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে আজ বাজারের পণ্যের মতো বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
  • আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনে আবারও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানান তিনি। তবে ভোটের আগে এই নামগুলো না ফিরলে অনেক মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি ও ইভিএম নিয়ে সতর্কতা

বর্ডার এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পনা করছে যাতে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারে। সেই সঙ্গে ইভিএম মেশিন নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ভোটারদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ভুলবশত বিজেপিকে ভোট দিলে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি এবং পরিচয় সংকটে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উন্নয়নের খতিয়ান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

নির্বাচনী জনসভায় মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাঙালি আবেগ’ এবং ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ লড়াইকে হাতিয়ার করতে চাইছেন। তাঁর এই কড়া অবস্থান তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *