৯০ লাখেরও বেশি নাম বাদ, মধ্যরাতে ফ্রিজ ভোটার তালিকা, কারা এবার ভোটাধিকার হারালেন

৯০ লাখেরও বেশি নাম বাদ, মধ্যরাতে ফ্রিজ ভোটার তালিকা, কারা এবার ভোটাধিকার হারালেন

দেশজুড়ে নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাত ১২টার পর এই তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম নিষ্পত্তির কাজ শেষ করেছে কমিশন। ১২তম অতিরিক্ত এই তালিকা প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়ে গেল, শীর্ষ আদালতের পরবর্তী কোনো বিশেষ নির্দেশ না থাকলে এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিরাই কেবল এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ গিয়েছিল। সোমবার রাতের প্রক্রিয়ায় আরও ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বর্তমানে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান জনসমক্ষে আনা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জনের নিষ্পত্তি হলেও ই-স্বাক্ষর না হওয়ায় তা এখনও প্রক্রিয়াধীন।

নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই ভোটার তালিকা স্থির করা হয়। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ বিচার করার দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্ধারিত বিচারকগণ। তাঁদের পর্যবেক্ষণে যাঁদের তথ্য সঠিক মেলেনি, তাঁদের নামই তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার হারানোয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অনলাইন বা অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। ইতিমধ্যে কিছু আবেদনকারী ট্রাইব্যুনাল থেকে ভোট দেওয়ার অনুমতি পেলেও, সোমবার রাতের পর নতুন করে তালিকায় নাম যুক্ত হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ। মঙ্গলবার থেকে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে শীর্ষ আদালতের ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মূল তালিকায় থাকা ভোটার, নতুন ফর্ম-৬ পূরণকারী যোগ্য আবেদনকারী এবং বিচারকদের রায়ে বৈধ বলে গণ্য হওয়া ব্যক্তিরাই এই চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তবে ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম এবারের ভোটের জন্য বিবেচিত হয়নি। এখন সব নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে, কারণ সেখান থেকে নতুন কোনো নির্দেশ এলেই কেবল এই ভোটার তালিকায় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *