৯৪-এ থেমে গেল স্বপ্ন—‘শনি ঠাকুর’ কে? ডলার ১০০ হলে সামনে কী ঝড় আসছে!

৯৪-এ থেমে গেল স্বপ্ন—‘শনি ঠাকুর’ কে? ডলার ১০০ হলে সামনে কী ঝড় আসছে!

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার ঐতিহাসিক পতন ঘটেছে। শুক্রবার ১ শতাংশেরও বেশি দর হারিয়ে রুপি প্রথমবারের মতো ৯৩.৭০-এর ঘরে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছানোয় আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার কেনার চাপ বেড়েছে। একইসাথে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়া নীতি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহারের ফলে চলতি সপ্তাহে টাকার মানে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ধস নেমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ভারত থেকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় ভারতীয় শেয়ার বাজারেও বড়সড় সংশোধন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করলেও বিশ্ববাজারের প্রবল চাপে রুপির মান নিকট ভবিষ্যতে ৯৫ থেকে ৯৮ এমনকি ১০০-এর ঘর স্পর্শ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টাকার এই অবমূল্যায়নে দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী সংকটের পূর্বাভাস মিলছে। ডলারের দাম ১০০ টাকা স্পর্শ করলে জ্বালানি তেল ও আমদানিকৃত পণ্যের খরচ আকাশছোঁয়া হবে, যা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে। ফলে পরিবহণ ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গৃহঋণের ইএমআই (EMI) বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে এই পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও রপ্তানি ক্ষেত্র কিছুটা লাভবান হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আমদানিনির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির জন্য মুদ্রার এই রেকর্ড পতন একটি বড়সড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *