নজরে ৯ লক্ষ ভোটার, জেলায় জেলায় ময়দানে নামলেন বিচারকরা
উত্তর ২৪ পরগনার বিশাল সংখ্যক ভোটারের ভাগ্য এখন ঝুলে রয়েছে এক অনিশ্চিত সুতোয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ভোটার তালিকায় থাকা নথিপত্র বা ‘সার’ (SIR) যাচাইয়ের কাজে সরাসরি মাঠে নেমেছেন জেলা বিচারকরা। সোমবার বারাসাতের জেলাশাসকের দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে ম্যারাথন স্ক্রুটিনি। মধ্যমগ্রাম থেকে বনগাঁ— ব্লকে ব্লকে পৌঁছে গিয়েছেন অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ পদমর্যাদার আধিকারিকরা।
নথির গরমিল ও বিচারকদের তৎপরতা
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল অবজার্ভারদের রিপোর্টে জেলার ৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিহীন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নথিপত্র ‘নিড টু বি রিভিউ’ বা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো সরাসরি ‘সন্দেহজনক’ তকমা না দিলেও, এই পর্যবেক্ষণই এখন সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম কেড়েছে।
মঙ্গলবার বারাসাত-২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখেন বিচারকরা। একই ছবি ধরা পড়েছে বনগাঁর এসডিও এবং বিডিও অফিসেও। বনগাঁ উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের ভোটারদের নথিপত্র চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন দুই অভিজ্ঞ বিচারক।
আতঙ্কে ৯ লক্ষ মানুষ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
পরিসংখ্যান বলছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫০৬ জন এবং রোল অবজার্ভাররা ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৩১ জন ভোটারের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের কথা বলেছেন। মোট সংখ্যাটা ৯ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় জেলা নির্বাচন দপ্তরের অন্দরেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।
এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকেই টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, তালিকায় তথ্যের অসঙ্গতি মেটাতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী
এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই ৯ লক্ষ মানুষকে কি ফের দীর্ঘ শুনানির মুখে দাঁড়াতে হবে? কতজনের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে আর কতজনের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে, তা পুরোটাই নির্ভর করছে বিচারকদের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর। আপাতত জেলা জুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, আর ভোটারদের মনে দানা বাঁধছে অজানা আশঙ্কা।