মার্কিন শুল্কের পালটা চাল: বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়াতে ভারতের নতুন রণকৌশল

আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া চড়া শুল্কের ধাক্কা সামলাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত। ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ কর আরোপের জেরে ভারতীয় রপ্তানিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এখন বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে নয়াদিল্লি। কেবল আমেরিকার ওপর নির্ভর না করে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে নিজেদের বাণিজ্য বিস্তার করতে মরিয়া ভারত সরকার।
রপ্তানি নীতিতে আমূল পরিবর্তন
বদলানো বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে ভারত তার ‘রপ্তানি প্রস্তুতি সূচক’ (EPI) সংশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক পরামিতিগুলো বাদ দিয়ে একটি আধুনিক ও বাস্তবসম্মত সূচক তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও মজবুত হবে।
নতুন বাজারের সন্ধান ও বৈচিত্র্যকরণ
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মার্কিন একাধিপত্যের ওপর ভারতের এই নির্ভরশীলতা কমানোর সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনা। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
তথ্যভাণ্ডার শক্তিশালী করার উদ্যোগ
সঠিক ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-এর সাহায্য নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে পরিষেবা খাতের সূক্ষ্ম তথ্য বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিটি খাতের আলাদা আলাদা অবদান এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
রাজ্যভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্য
নতুন রপ্তানি সূচকে প্রতিটি রাজ্যের রপ্তানি চাহিদা এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলাদাভাবে গবেষণা করা হবে। এতে রাজ্যগুলো যেমন লাভবান হবে, তেমনি সামগ্রিকভাবে বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের অংশীদারিত্ব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।