চিনি-মুক্ত বিস্কুট কি আদতে নিরাপদ? ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বড় সতর্কতা

আজকালকার ব্যস্ত জীবনে ডায়াবেটিস একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। রক্তে শর্করার মাত্রা ধরা পড়লেই খাদ্যাভ্যাস থেকে সবার আগে বাদ পড়ে চিনি। আর এই সুযোগেই বাজার দখল করেছে হরেক রকমের ‘সুগার-ফ্রি’ বা চিনি-মুক্ত পণ্য। বিশেষ করে বিস্কুটের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে এই লেবেল দেখে আকৃষ্ট হন। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন অন্য কথা। চিনি না থাকলেও এই বিস্কুটগুলো আপনার শরীরের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্য
অধিকাংশ চিনি-মুক্ত বিস্কুটের প্রধান উপাদান হলো পরিশোধিত ময়দা (Refined Flour)। এতে সরাসরি চিনি না থাকলেও ময়দা হজম হওয়ার পর দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া স্বাদ বাড়াতে এতে ব্যবহার করা হয় প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিশোধিত তেল, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, এই বিস্কুটগুলো খেলে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি যাদের ডায়াবেটিস নেই, নিয়মিত এই বিস্কুট খেলে তাদেরও ভবিষ্যতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিস্কুট কেনার আগে যা দেখা জরুরি
প্যাকেটজাত চিনি-মুক্ত বিস্কুট কেনার সময় কেবল সামনের লেবেল না দেখে উপাদানের তালিকা (Ingredients) ভালো করে যাচাই করুন:
- উপাদান: বিস্কুটটি ময়দা না কি আটা বা অন্য কোনো গোটা শস্য (Whole Grain) দিয়ে তৈরি তা দেখে নিন।
- ম্যাল্টোডেক্সট্রিন (Maltodextrin): অনেক সময় চিনি না থাকলেও এতে ম্যাল্টোডেক্সট্রিন থাকে, যা চিনির চেয়েও দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়। এটি থাকলে এড়িয়ে চলুন।
- ফাইবার: বিস্কুটে ফাইবারের পরিমাণ বেশি কি না তা নিশ্চিত করুন।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী হতে পারে?
বিকেলের চায়ের সাথে বিস্কুটের বদলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন:
- বাদাম ও বীজ: কাজু, পেস্তা, আমন্ড বা কুমড়োর বীজ এবং চিয়া সিডস হতে পারে সেরা স্ন্যাকস।
- গোটা শস্য: ওটস, জোয়ার, বাজরা বা রাগির তৈরি খাবার অনেক বেশি নিরাপদ।
- ঘরে তৈরি খাবার: সম্ভব হলে বাড়িতে তৈরি আটার বিস্কুট ব্যবহার করুন, যেখানে আপনি তেল ও মিষ্টির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
মনে রাখবেন, কোনো খাবারই অতিরিক্ত ভালো নয়। সুগার-ফ্রি হলেও দিনে একটি বা দুটির বেশি বিস্কুট খাওয়া উচিত নয়। সুস্থ থাকতে সচেতনতাই শেষ কথা।