ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে চাপে কমিশন

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে চাপে কমিশন

কেরালার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বড়সড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের নামের তালিকা অবিলম্বে সরকারি অফিস এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে বলেছে আদালত।

নাগরিকত্ব বনাম ভোটার হওয়ার অধিকার: তুঙ্গে সওয়াল-জবাব

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী যুক্তি দেন যে, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে কেউ ভোটার হতে পারেন না।

এর পাল্টা জবাবে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তোলেন, “ভোটার হওয়ার জন্য নাগরিকত্ব প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু নির্বাচন কমিশন কি আদৌ কারও নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে?”

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশন মূলত নাগরিকদের চিহ্নিত করার কাজ করছে। কমিশন কাউকে নির্বাসন দেওয়ার বা ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

  • কেউ যদি দাবি করেন তিনি নাগরিক, তবে কমিশন কেবল তদন্ত করে দেখতে পারে সেই দাবি কতটা সঠিক।
  • কিন্তু নাগরিকত্ব দেওয়ার চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন নয়।

২০০৩ পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা

কমিশনের আইনজীবী জানান, ২০০৩ সালের আগে যারা ভোটার তালিকায় ছিলেন বা যাদের বাবা-মা সেই সময়ে ভোটার ছিলেন, তাদের নিয়ে সমস্যা নেই। মূল সমস্যা ২০০৫ সালে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া নতুন ভোটারদের নিয়ে। বিচারপতি বাগচী এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ভোটার তালিকায় নাম থাকার অর্থই হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন নাগরিক। তাই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

আপাতত শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে কেরালার কয়েক লক্ষ মানুষ তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় বাড়তি সময় ও স্বচ্ছতা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *