মৌনি অমাবস্যা ২০২৬: ১৮ জানুয়ারি মৌনি অমাবস্যা, জেনে নিন নীরব উপবাসের অর্থ কী

মৌনি অমাবস্যা ২০২৬: ১৮ জানুয়ারি মৌনি অমাবস্যা, জেনে নিন নীরব উপবাসের অর্থ কী

মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথিটি হিন্দুধর্মে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত। আগামী ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পালিত হবে মৌনি অমাবস্যা। আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানসিক প্রশান্তি অর্জনের জন্য এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তিথি ও সময়কাল

  • শুরু: ১৮ জানুয়ারি, রাত ১২:০৩ মিনিটে।
  • শেষ: ১৯ জানুয়ারি, রাত ১:২১ মিনিটে।

মৌনি অমাবস্যার মাহাত্ম্য

মৌনি অমাবস্যার মূল ভিত্তি হলো ‘মৌনব্রত’ বা নীরবতা পালন। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনে বাকসংযম ও নীরব উপবাস পালনের মাধ্যমে মন ও আত্মার শুদ্ধি ঘটে। মনে করা হয়, এই দিনটি আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের এক বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে।

জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রভাব

মাঘ মাসের এই লগ্নে চাঁদ ও সূর্যের বিশেষ অবস্থানের কারণে মানসিক শক্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। জ্যোতিষবিদদের মতে, যারা এই দিনে নীরবতা বজায় রেখে ধ্যান করেন, তাদের একাগ্রতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। জীবনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা আনতেও এই তিথি অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

নীরব উপবাসের উপকারিতা

  • মানসিক শান্তি: অহেতুক বাক্যলাপ বন্ধ থাকলে মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয় এবং মানসিক ভারসাম্য বৃদ্ধি পায়।
  • আত্মবল বৃদ্ধি: নীরবতা ধৈর্য ও মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • আধ্যাত্মিক সিদ্ধি: ধ্যান ও প্রার্থনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চেতনার পুনর্নবীকরণ ঘটে।

পালনের নিয়মাবলী

১. পবিত্র স্নান: সূর্যোদয়ের পূর্বে পবিত্র নদীতে বা গঙ্গাজল মিশ্রিত জলে স্নান করা শুভ।

২. মৌনব্রত: সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হয়।

৩. দান-ধ্যান: দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র বা তিল দান করা এই দিনে অত্যন্ত পুণ্যদায়ক।

৪. ধ্যান: দিনের অধিকাংশ সময় জপ, তপস্যা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠে অতিবাহিত করা উচিত।

সংযম ও ত্যাগের এই দিনটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং আধুনিক জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের অন্তরের সাথে সংযোগ স্থাপনের এক অনন্য মাধ্যম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *