৩০ হাজার টাকা বেতন হলে কত পেনশন পাবেন? ইপিএফও-র নতুন হিসাবে খুশির খবর

বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মীদের জন্য সুখবর! অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। বর্তমানে ১৫,০০০ টাকার যে বেতন সীমা বা ওয়েজ সিলিং রয়েছে, তা বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আপনার মাসিক পেনশনের অঙ্ক একধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
কেন এখন পেনশনের পরিমাণ কম?
বর্তমানে ইপিএফও-র নিয়ম অনুযায়ী পেনশন গণনার সর্বোচ্চ বেতন সীমা ১৫,০০০ টাকা নির্ধারিত। অর্থাৎ, আপনার আসল বেতন ৫০,০০০ টাকা বা ১ লক্ষ টাকা যাই হোক না কেন, পেনশন গণনার সময় তা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা হিসেবেই ধরা হয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই দীর্ঘ বছর চাকরির পরও কর্মীদের হাতে খুব সামান্য অঙ্কের পেনশন আসে। বর্তমানে এই নিয়মে সর্বোচ্চ পেনশনের পরিমাণ ৭,৫০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন মাত্র ১,০০০ টাকা।
যেভাবে বদলে যাবে পেনশনের হিসাব
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং সরকারি স্তরে আলোচনার ভিত্তিতে এই বেতন সীমা ৩০,০০০ টাকা করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পেনশন গণনার সূত্রটি হলো: (পেনশনযোগ্য বেতন × চাকরির মেয়াদ) / ৭০।
যদি এই নতুন সীমা কার্যকর হয়, তবে হিসাবটি দাঁড়াবে নিম্নরূপ:
- বর্তমান অবস্থা: ১৫,০০০ টাকা সীমার ভিত্তিতে ৩৫ বছর চাকরির পর পেনশন পাওয়া যায় ৭,৫০০ টাকা।
- প্রস্তাবিত পরিবর্তন: বেতন সীমা ৩০,০০০ টাকা হলে একই মেয়াদের চাকরির জন্য পেনশন বেড়ে হবে ১৫,০০০ টাকা।
- সর্বনিম্ন পেনশন: বর্তমানের ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে সর্বনিম্ন পেনশনের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৪,২৮৫ টাকা।
কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
এই পরিবর্তনের ফলে মূলত বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদী কর্মীরা লাভবান হবেন। গত ৬০ মাসের গড় মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই ‘পেনশনযোগ্য বেতন’ নির্ধারিত হয়। সীমা বাড়লে প্রতি মাসে ইপিএস (EPS) অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে অবসরের পরের মাসিক আয়ের ওপর। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ চাকুরিজীবীর বার্ধক্যের সম্বলকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।