বিয়ারে কি সত্যিই কিডনির পাথর সারে? জেনে নিন আসল সত্য

কিডনিতে পাথর হওয়া বর্তমানে এক সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পাথর দূর করা নিয়ে সমাজে প্রচলিত সবচেয়ে বড় মিথ বা ভুল ধারণাটি হলো— প্রচুর পরিমাণে বিয়ার পান করলে কিডনির পাথর শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিচ্ছেন।
বিয়ার ও কিডনির পাথর: ভ্রান্ত ধারণা বনাম বাস্তবতা
অনেকের ধারণা, বিয়ার পান করলে শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে, যা পাথর বের করে দিতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট পাথর অনেক সময় প্রচুর জল পানের ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই বেরিয়ে যেতে পারে। বিয়ার প্রস্রাবের বেগ বাড়ালেও এটি কোনো চিকিৎসা নয়। উল্টে বড় পাথর জোর করে বের করার চেষ্টা করলে তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ বা প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিয়ার পানের ঝুঁকি
বিয়ারকে নিরাপদ ঘরোয়া প্রতিকার ভাবলে ভুল করবেন। এর কারণগুলো হলো:
- অক্সালেটের উপস্থিতি: বিয়ারে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট থাকে, যা কিডনিতে নতুন পাথর তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান।
- জলশূন্যতা: অ্যালকোহল শরীরকে জলশূন্য (Dehydration) করে তোলে এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট করে, যা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
- স্থূলতা: বিয়ারে ক্যালোরি বেশি থাকে, যা ওজন বৃদ্ধি করে এবং পরোক্ষভাবে কিডনির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন অনেক ওষুধ রয়েছে যা মূত্রনালীর পেশিকে শিথিল করে পাথর সহজে বের হতে সাহায্য করে। বড় পাথরের ক্ষেত্রে আধুনিক লেজার বা অন্য কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাথর অপসারণ সম্ভব। তাই বিয়ারের ওপর ভরসা না করে ইউরোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।