আই-প্যাক মামলা: ইডি কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এ স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে আই-প্যাক (I-PAC) দপ্তরে তল্লাশি ঘিরে যে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তাতে বড় জয় পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা সমস্ত এফআইআর-এর ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অত্যন্ত কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
- কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজ্যের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
- এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়তে পারে।
- ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না।
রাজ্যকে নোটিশ ও রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ
শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৮ জানুয়ারির অভিযানের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না করে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত ৮ জানুয়ারি সল্টলেকে আই-প্যাক অফিস এবং সংস্থাটির ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ ছিল, রাজ্য পুলিশ ও প্রভাবশালীদের মদতে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাল্টা ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করেছিল পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটে সিবিআই তদন্ত এবং নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ আধিকারিকের বরখাস্তের দাবিও জানিয়েছে ইডি, যা পরবর্তী শুনানিতে বিবেচনা করবে আদালত।
রাজনৈতিক সমীকরণ
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, নির্বাচনী কৌশল হাতাতেই ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই হানা দিচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশে আপাতত স্বস্তিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।