আমেরিকার অগোচরেই ইরান-ইসরায়েল গোপন চুক্তি! মধ্যস্থতায় রাশিয়া

২০২৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ রাতারাতি বদলে গেল। ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়িয়ে এবার সরাসরি রাশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও ইসরায়েল। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই চুক্তির বিষয়ে ঘুণাক্ষরেও কিছু জানত না আমেরিকা।
যুদ্ধের বদলে স্থিতাবস্থা
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে রাশিয়ার মাধ্যমে একে অপরের কাছে গোপন বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান ও তেল আবিব। ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরান যদি আগে আক্রমণ না করে, তবে তারাও ইরানি ভূখণ্ডে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। জবাবে ইরানও একই ধরনের আশ্বাস দিয়ে সংঘাত থেকে পিছিয়ে আসার বার্তা দিয়েছে। মূলত রাশিয়ার সক্রিয় হস্তক্ষেপে এই ‘নন-অ্যাগ্রেশন’ বা অনাক্রমণ চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
বিপাকে আমেরিকা ও ট্রাম্পের পরিকল্পনা
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে হামলার ছক কষছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলের এই গোপন পদক্ষেপ আমেরিকাকে বড়সড় কূটনৈতিক ধাক্কা দিল। একদিকে হোয়াইট হাউস যখন ইরানকে কোণঠাসা করতে মরিয়া, তখন তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শত্রুপক্ষের সঙ্গেই হাত মেলাল।
সতর্ক ইসরায়েল ও ইরানের পালটা প্রস্তুতি
গোপন চুক্তি হলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই। সেনাপ্রধানের নির্দেশে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা যদি সত্যিই আক্রমণ করে, তবে চুপ থাকবে না ইরানও। লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।