২৫ হাজার অসুস্থ পুণ্যার্থীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠালেন চিকিৎসকরা

২৫ হাজার অসুস্থ পুণ্যার্থীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠালেন চিকিৎসকরা

কেউ আসছেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে, কেউ পেট খারাপ নিয়ে। কাউকে আনা হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায়। আবার হাত-পা ভাঙা অবস্থাতেও নিয়ে আসা হয়েছে কাউকে। সাগরমেলায় দম ফেলার ফুরসত নেই অস্থায়ী হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের। জানা গিয়েছে, ১০ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এমন প্রায় ২৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন ডাক্তাররা। একে ঠান্ডা, তার উপর মেলায় প্রবল ধুলো। তার জেরেই পুণ্যার্থীদের অনেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আক্রান্ত। এই সমস্যা নিয়েই সব থেকে বেশি পুণ্যার্থী সাগরের অস্থায়ী হাসপাতালে এসেছেন। প্রত্যেককেই সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছেন ডাক্তাররা। হাসপাতালের পরিষেবা পেয়ে সবাই খুশি।
বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স ও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা এই সাতদিন উপস্থিত থাকেন গঙ্গাসাগরে। লাখো পুণ্যার্থীর ভিড়ে কেউ অসুস্থ হলে যাতে ঠিকমতো চিকিৎসা পান, সেটাই লক্ষ্য প্রশাসনের। এই খবর লেখা পর্যন্ত এবার কোনও পুণ্যার্থী এই হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যাননি। তবে কয়েকজন পুণ্যার্থীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে বিহারের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয়কুমার সিংকে বাসস্ট্যান্ডে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।


জানা গিয়েছে, যাঁরা চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একটা বড়ো অংশকে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার এমন কয়েকজন রোগী এসেছেন, যাঁদের হাসপাতালে ভরতি রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যাই বেশি। হয় শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা, না হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা। ধুলো মোকাবিলায় বিশেষ অ্যান্টি স্মগ মেশিন ব্যবহার করা হলেও সেটি সব সময় কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই ধুলোয় ঢেকেছে পরিবেশ। যাঁদের সিওপিডির সমস্যা রয়েছে, তাঁরাই মূলত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ডাক্তাররা বলছেন, প্রবীণদের ডাক্তার দেখানোর প্রবণতা বেশি। হাঁটতে গিয়ে পায়ের হাড় ভেঙেছে, এমন কয়েকজন পুণ্যার্থীও এসেছেন হাসপাতালে। দু’জনকে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তাঁদের এয়ার লিফট করে কলকাতায় পাঠানো হয়। বাকিদের পায়ের প্লাস্টার করে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *