ওড়িশার দুই বন্ধুর বাজিমাত: স্ট্রবেরি চাষে মিলছে লক্ষ টাকার দিশা

চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের গ্রামেই বিপ্লব ঘটিয়েছেন ওড়িশার দুই তরুণ— চরণ লেনকা ও সাধভ রাউলা। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও কঠোর পরিশ্রমকে সম্বল করে ওড়িশার ব্রহ্মপুরের কাছে সজনপুর পঞ্চায়েতের এই দুই বন্ধু এখন এলাকার তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণা। মাত্র ২৫টি চারা দিয়ে শুরু হওয়া তাদের এই ‘এগ্রি-স্টার্টআপ’ এখন এক একর জমিতে বিস্তৃত।
যেভাবে শুরু হলো এই যাত্রা
চার বছর আগে হিমাচল প্রদেশ থেকে মাত্র ২৫টি চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেছিলেন তারা। মাত্র তিন মাসে ১৮ কেজি ফলন দেখে তারা আত্মবিশ্বাস পান। বর্তমানে তারা মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর থেকে উন্নতমানের বীজ এনে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি উৎপাদন করছেন।
সাফল্যের চাবিকাঠি: জৈব পদ্ধতি ও প্রযুক্তি
চরণ ও সাধভ সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এবং ড্রিপ সেচ ব্যবহার করে এই চাষ করছেন। রাসায়নিক সারের বদলে প্রাকৃতিক সার ব্যবহারের ফলে তাদের স্ট্রবেরির স্বাদ ও গুণমান অতুলনীয়। ফল বাজারে আসার আগেই হোটেল এবং জুস সেন্টার থেকে মিলছে অগ্রিম অর্ডার। শুধু লাভ নয়, এই খামারের মাধ্যমে পাঁচজন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।
স্ট্রবেরি চাষের কিছু জরুরি তথ্য
- উপযুক্ত আবহাওয়া: ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এই চাষের জন্য আদর্শ।
- মাটির ধরন: বালি মিশ্রিত উর্বর মাটি যেখানে জল জমে থাকে না।
- ফলন সময়: গাছ রোপণের ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল তোলা শুরু হয়।
- উৎপাদন: সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রতি একরে ৮ থেকে ১২ টন ফলন সম্ভব।
মিলছে সরকারি ভর্তুকি
স্ট্রবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহ দিতে সরকার মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার (MIDH) প্রকল্পের অধীনে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে। ড্রিপ সেচ ও নার্সারি তৈরির জন্যও রয়েছে বিশেষ আর্থিক সহায়তা। আগ্রহী যুবকরা স্থানীয় কৃষি দপ্তর বা উদ্যান বিভাগে যোগাযোগ করে এই সুবিধা নিতে পারেন।
প্রথাগত চাষের বাইরে বেরিয়ে আধুনিক চিন্তাভাবনা আর সরকারি সহায়তাকে কাজে লাগালে কৃষি যে একটি লাভজনক স্টার্ট-আপ হতে পারে, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন ওড়িশার এই দুই কৃতি সন্তান।